মক্কা-মদিনায় নামাজ, উমরা প্রভৃতি আমলের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ভিন্নতা দেখতে পাবেন। এতে বিচলিত কিংবা বিভ্রান্ত হবেন না। এ নিয়ে কারও সঙ্গে বিতর্কেও জড়ানো যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দেশের যে আলেমের ইলম ও তাকওয়ার প্রতি আপনার আস্থা রয়েছে, তার কাছ থেকে সমাধান জেনে নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করবেন। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে হানাফি মাজহাব অনুসরণে যে আমল করা হয়ে থাকে, তার সপক্ষেও কোরআন-সুন্নাহর মজবুত দলিল রয়েছে।
এমনিভাবে হানাফি মাজহাবসহ স্বীকৃত চারটি মাজহাবের কোনোটিই কোরআন-সুন্নাহ থেকে ভিন্ন কোনো বিষয় নয়। মক্কা-মদিনায় হজ ও উমরা করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে চারও মাজহাবের লোকজন আসেন। তাদের সবারই নামাজের আলাদা পদ্ধতি রয়েছে; তা দেখে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।
সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত ও জানাজার নামাজে পদ্ধতিগত যে দু-চারটি ভিন্নতা চোখে পড়ে, তাও সুন্নাহসম্মত এবং তারও মূলভিত্তি সুন্নাহ। আর আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা হয়, তারও ভিত্তি সুন্নাহ। উভয় পদ্ধতিই সুন্নাহ ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ জন্য সেখানে কোনো ভিন্ন পদ্ধতি দেখে নিজ দেশের আলেমদের প্রতি অনাস্থা নিয়ে আসবেন না।
এ ছাড়া মাতাফে নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে সবার জন্য অতিক্রম করা জায়েজ। আর মাসজিদুল হারামেও প্রয়োজনে নামাজির সামনে দিয়ে তাওয়াফকারীদের চলাচল করা জায়েজ। (ইবনে হিব্বান, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ১২৮)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক