ঈদুল আজহার দিনটি শুধু উৎসবের দিন নয়, এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনে যেভাবে আমল করেছেন, সেই সুন্নত অনুসরণ করাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
গোসল করা ও উত্তম পোশাক পরিধান করা: ঈদের নামাজের আগে ভালোভাবে গোসল করা সুন্নত। নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরিধান করবেন। পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করাও সুন্নত। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজের আগে গোসল করতেন। (ইবনে মাজাহ, ১৩১৫)
আরো পড়ুন: শরিকানা কোরবানির অজানা কিছু কথা
সুগন্ধি ব্যবহার করা: পুরুষদের জন্য ঈদের দিন আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। হজরত আলি (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরতে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতে আদেশ করেছেন। (মুসতাদরাকে হাকিম, ৭৫৬০)
নামাজের আগে কিছু না খাওয়া: ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত হলেও ঈদুল আজহায় নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা এবং নামাজের পর নিজের কোরবানির মাংস দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না। আর ঈদুল আজহার দিন নামাজ না পড়ে কিছু খেতেন না।’ (তিরমিজি, ৫৪২)
হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া: হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে ঈদগাহে যেতেন এবং হেঁটে ফিরতেন।’ (ইবনে মাজাহ, ১২৯৫)
আরো পড়ুন: একবার ‘লাব্বাইক’ মানেই কি একবার হজ?
এক পথে যাওয়া, ভিন্ন পথে ফেরা: হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন এক পথে যেতেন এবং ভিন্ন পথে ফিরতেন।’ (বুখারি, ৯৮৬)
ঈদের দিন পরস্পরকে কী বলবেন: হজরত জুবায়ের ইবনে নুফায়ের (রহ.) বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাতে বলতেন—তাকাববালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ (ফাতহুল বারি: ২/৫১৭)
ঈদের নামাজ সকাল সকাল আদায় করা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) একবার ঈদের নামাজে ইমামের বিলম্ব হতে দেখে আপত্তি করলেন এবং বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমরা ইশরাকের সময় নামাজই শেষ করতাম’। (আবু দাউদ, ১১৩৫)
আগে নামাজ, তারপর কোরবানি: হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবায় বললেন, ‘আমাদের এই দিনে প্রথম কাজ হলো নামাজ আদায় করা, এরপর কোরবানি করা। যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরিকা অনুযায়ী হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের আগেই জবাই করে নিল, তা তো তার জন্য এমন মাংস হলো—যা সে তার পরিবারের জন্য তাড়াতাড়ি প্রস্তুত করে নিল; কোরবানির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’ (বুখারি, ৯৬৮;)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক