অনেকটা উল্কার মতো আগমন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। কিন্তু শুরুর উচ্চকিত পারফরম্যান্স দ্রুতই মিলিয়ে যায়। হতাশা গ্রাস করে টম ব্রুসকে। ২০২১ সালের পর নিউজিল্যান্ড দলে আর ডাক পড়েনি। জাতীয় দলের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেই ব্রুস এখনো কিউই ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফর্মার। কিউই টপ অর্ডার ব্যাটার প্রথমবারের মতো খেলছেন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে। বিপিএলে তার দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তিন ম্যাচে করেছেন দুই ফিফটি। বিপিএলসহ নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সিলেটে টিম হোটেলে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ রায়।
বিপিএল কেমন উপভোগ করছেন?
দারুণ একটা টুর্নামেন্ট। এটা আমার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এবং প্রথমবার বাংলাদেশে আসা। খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি। এখানে আসা অল্পদিন হলেও দারুণ সাড়া পাচ্ছি। এখানে আমার মূল কাজ বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে জানা এবং এখানে কীভাবে খেলতে হয় সেটা শেখা।
নিউজিল্যান্ড দলে অভিষেকটা দারুণ ছিল। এরপরেই আবার হারিয়ে গেলেন?
আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ডে আমার উত্থানটা খুব দ্রুত হয়েছে। সম্ভবত যা ভেবেছিলাম তার থেকেও দ্রুত। এই সময়ে আসলে আমি ঠিকঠাক শিখতেও পারিনি। একই ভুল বারবার করে গেছি। মনে রাখতে হবে, জীবনে উত্থান-পতন থাকে আর আপনার চেয়ে ভালো কেউ খেলবে। এখন যারা খেলছে তারা নিঃসন্দেহে আমার থেকে ভালো। তবে এটা সত্যি অভিষেকের সময়ের চেয়ে এখন আমি আরও পরিণত। এখনো জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা আছে। কিন্তু আমার বয়স থেমে নেই, এখন ৩২। এই বয়সে আবার নিউজিল্যান্ড দলে খেলাটা বড্ড কঠিন। বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে ভালো করলে সুযোগ এলেও আসতে পারে।
জাতীয় দলে অভিষেকের আগে লঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছিলেন। ওখান থেকে কী শিখতে পেরেছিলেন?
মাহেলা দারুণ মানুষ। বিশ্ব ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি। আমি ভাগ্যবান তার সঙ্গে সুপার স্ম্যাশে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের হয়ে দুই মৌসুম খেলতে পেরেছি। মাহেলা ঠাণ্ডামাথায় ক্রিকেট খেলে। ক্রিকেটের বাইরে তার সঙ্গে গলফ খেলতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর কিছুই আমি দিতে পারিনি।
নিউজিল্যান্ড দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি। কিউইদের হয়ে খেলার আগে আপনার সামনে সুযোগ ছিল স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলা। এখন কী মনে হয় স্কটিশদের হয়ে খেললে ভালো করতেন?
দেখেন, ২০১৬ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল আমার সামনে। আমি স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। সম্ভবত এটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ হতে পারত। তবে এখনই সব সুযোগ শেষ এমনটা বলা যাচ্ছে না। দেখা যেতে পারে, আমি সেখানে গিয়ে আবার খেলার চেষ্টা করতে পারি। তবে বর্তমানে আমার পরিবার নিউজিল্যান্ডে সুখে আছে।
লকি ফার্গুসনে সঙ্গে একই ম্যাচে অভিষেক। এখন ফার্গুসন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা বোলার। তাকে দেখে আফসোস হয় কী?
ওই ম্যাচে আমার পাশাপাশি ফার্গুসন ও টম হোয়েলারের অভিষেক হয়েছিল। তারা সতীর্থ হিসেবে দারুণ। লকির যাত্রাটা দারুণ হচ্ছে। তার শক্তির জায়গা বেশ সমৃদ্ধ। যখন আপনার ১৪০-১৪৫ গতিতে বল করার সামর্থ্য থাকবে তখন যে কেউ আপনাকে পেতে চাইবে। এর চেয়ে বড় বিষয়, সে বোলার আর আমি ব্যাটার। এই জন্যই আসলে কোনো আফসোস হয় না। এটা সত্য লকি দিনকে দিন ওপরে উঠছে, যেখানে আমারও থাকার কথা ছিল। পারফরম্যান্স ক্রিকেটের অংশ। এটা দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই না। লকির প্রতি ভালোবাসা সব সময়। নিউজিল্যান্ডকে আরও ওপরে নিয়ে যাক, এটাই সব সময় চাই আমরা।
কোভিড পরিস্থিতির পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। এরপরেই বাদ। এটা কী হতাশাজনক?
হতাশার দরুন এসব বিষয় থেকে আসলে শেখা উচিত। আমাদের সব সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত। বেশি আফসোস করলে আমার জন্যই সেটা ক্ষতির কারণ হতে পারত। ক্রিকেটারদের আসলে হতাশ হওয়া উচিত যখন সে পারফর্ম করতে না পারে। আমি ওই পরিস্থিতি থেকে শিখেছি এবং নিজের উন্নতিতে মনোনিবেশ করেছি।
২০২১-২২ মৌসুমে লাল বলের ক্রিকেটে দুই ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে ৮৫১ রান করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে বর্ষসেরাও হয়েছিলেন। তবুও টেস্ট দলে ডাক পড়েনি। কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
এটা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নিয়মিত ঘটনা। নির্বাচকরা মূলত ধারাবাহিকতা দেখতে চায়। তারা এখনকার ফর্মের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে বেশি মূল্যায়ন করে। লাল বলে নিউজিল্যান্ড দলে আমার চেয়ে আরও ভালো কিছু ক্রিকেটার আছে। সেখানে আমাকে সুযোগ দিলে তাদের প্রতি এটা অন্যায় হতো। ক্রিকেটার হিসেবে রানের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা আমার কাজ। যত বেশি সম্ভব নিয়মিত রান করতে চাই। শেষ তিন বছরে অনেক রান করেছি। আশা করি এই ধারাবাহিকতা থাকবে।
একটু বিপিএলে ফিরি। টুর্নামেন্টটা কেমন দেখছেন?
মাত্র এক সপ্তাহ এসেছি। ভালো টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এখানকার উইকেটগুলো ভালো। ১৬৫-১৭০ রানই এখানকার সেরা রান। বোলাররা দারুণ বোলিং করছে। তারা বেশ ধারাবাহিক পারফর্মার।
বিপিএলের পর ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলবেন। হুট করে ফরম্যাট বদল হবে? এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এটা দারুণ সুযোগ। আমি সব সময় কাউন্টি খেলতে চাই। ইংল্যান্ডে খেলাটা দারুণ বিষয়। চার দিনের ক্রিকেটকে আমি অনেক বেশি উপভোগ করি। কাউন্টিতে পুরো মৌসুম খেলার সুযোগ পাওয়াটাও দারুণ বিষয়। আমি সেখানে ট্রফি জিততে মুখিয়ে আছি। ইংল্যান্ডে ডিউক বলে খেলা হয়। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ডিউক বলে কেমন করতে পারি এটাও এবার প্রমাণ হবে।
নিউজিল্যান্ডের অনেক ক্রিকেটার বিপিএল খেলে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়েছে। আপনার ভাবনা কেমন?
বিপিএল আমার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। এখানে আমার সেরা খেলাটা খেলতে চাই এবং চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। এই সুযোগ যদি আমাকে অন্য টুর্নামেন্টের দরজা খুলে দেয় তাহলে অবশ্যই খেলব। সেখানকার অভিজ্ঞতাও নিতে মুখিয়ে আছি আমি। তবে এর আগে টুর্নামেন্ট শেষে আমি ঘরে ফিরব। তারপর ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টিতে খেলব। এসব শেষে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট সম্পর্কে ভাবনা-চিন্তা করব আমি।