ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) মোহামেডানের জার্সিতে আলো ছড়িয়েছেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি। বল হাতে ১৬ ম্যাচে ৩১ উইকেট নিয়ে ডিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও মোহামেডানের জার্সিতে রেখেছেন কার্যকরী ভূমিকা। দুই ফিফটিতে ১২ ইনিংসে তার রান ২৫০। ডিপিএলে সাদা-কালোদের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আবু হায়দার রনি কথা বলেছেন নিজের পারফরম্যান্স এবং উন্নতির জায়গা নিয়ে। জানিয়েছেন অফ সিজনে নিজের কাজের পরিকল্পনাও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের ক্রীড়া প্রতিবেদক পার্থ রায়
ডিপিএল ভালো কেটেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছেন?
রনি : চেষ্টা করেছিলাম ভালো করার। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। একটা মোমেন্টামের আশায় ছিলাম। যখন মোমেন্টাম পেয়েছি সেটাই চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো হচ্ছে। ডিপিএলে বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিংও ভালো করেছেন। ব্যাটিং নিয়ে সব সময় আমার চেষ্টা থাকে। অনুশীলনে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং করি। আমার কাছে মনে হয়, ব্যাটিং আগে থেকেই ভালো ছিল। যে পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করি ওই অনুযায়ী অনুশীলন করেছিলাম। এগুলো এখন কাজে দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিল কে?
রনি : আমি যখন জাতীয় দলে ছিলাম, ২০১৬ বিশ্বকাপের সময় তখন সাকিব (সাকিব আল হাসান) ভাই আমাকে বলেছিলেন, তোমার ব্যাটিং ভালো আছে। এটা চালিয়ে যাও তাহলে ভালো হবে তোমার জন্য। ওটা সব সময় মাথায় থাকে। চেষ্টা করলে ভালো হবে তাই চেষ্টা করছি।
বিপিএলে থাকা ছন্দটাই ডিপিএলে অব্যাহত ছিল বলে মনে হয় কি না?
রনি : হ্যাঁ অবশ্যই। ওইখান থেকেই আসলে বোলিংটা ভালো হচ্ছে। বোলিংটা আসলে নির্ভর করে ছন্দের ওপর। আলহামদুলিল্লাহ বিপিএল থেকে আমি ভালো ছন্দে আছি। ছন্দ ভালো থাকলে পেস বোলিং করাটা সহজ হয়। আমি চেষ্টা করছি, আলহামদুলিল্লাহ ভালো হচ্ছে। ফলটাও ভালো হচ্ছে।
ছন্দ ধরে রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কাজ করেছিলেন কি না?
রনি : বাংলা টাইগার্সের অনুশীলনে আমি অনেক কাজ করেছিলাম। সেখানে নাজমুল (হোসেন) ভাই, চাম্পাকার (রামানায়েকে) সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের সঙ্গে নিজের রানআপ নিয়ে কাজ করেছি। সেখানে রানআপের গতি বাড়ানোর কাজ হয়েছে। ছোট ছোট কাজ করেছি। তাতেই আমার ছন্দ ঠিক আছে।
২০১৫ বিপিএলের পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় লম্বা সময় সার্ভিস দিতে পারেননি। ওই সময় কী ঘাটতি ছিল?
রনি : পার্থক্য বলে মনে হয়, অভিজ্ঞতা কম ছিল। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এখন ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারি ভালো। আগে অভিজ্ঞতা কম থাকায় এই কাজটা পারতাম না। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। এ ছাড়া বাকি সব কিছুই আগের মতো আছে।
পেসাররা এখন নিয়মিত ভালো করছে। এটা আপনাকে ভালো করতে কতটা প্রভাবিত করেছে?
রনি : আমাদের পেস বোলিং বিভাগ এখন অনেক ভালো করছে। যারা দলের বাইরে আছে তারাও ভালো করছে। এটা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে। যখন দলে থাকা কেউ ভালো করে তখন তাদের ধরার জন্য বাইরের পেসাররাও চেষ্টা করছে। এতে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয় এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্যই লাভজনক। এ জন্য এখন পেসাররা ডমিনেট করছে, আগে যেটা স্পিনাররা করত। এটা ভালো লক্ষণ। আর পেস বোলারদের মধ্যে আগ্রহ আসছে যে আগের চেয়ে সব সুবিধা বেড়েছে। নতুন নতুন স্কিল শেখা যাচ্ছে এবং অভিজ্ঞতা হচ্ছে। এ রকম থাকলে ভালো ভালো পেস বোলার আসবে।
পেসারদের উন্নতিতে উইকেটের ভূমিকা কতটুকু?
রনি : উইকেট আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে। এখন আমরা ভালো উইকেট পাই। আগে যেটা ছিল না। একসময় বেশির ভাগ উইকেট ফ্ল্যাট কিংবা টার্নিং থাকত। কিন্তু এখন উইকেটে ঘাস দেওয়া হয় ফলে পেসাররা সুবিধা পায়। ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের উইকেট এখন ভালো হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ভালো হচ্ছে।
ডিপিএলের শেষ, এখন নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন কীভাবে?
রনি : ডিপিএলের পর যে সময়টা আছে আশা করি বাংলা টাইগার্সে থাকব। গত বছরও ছিলাম। যদি ওখানে থাকি তাহলে সেখানেই অনুশীলন করব। ছন্দটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করব। যদি বাংলা টাইগার্সে না থাকি তাহলে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কোচের অধীনে একই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করব।
এত দিন শুধু সাইফউদ্দিনকে পেস বোলিং অলরাউন্ডার বলা হতো। তাহলে আপনিও এখন পেস বোলিং অলরাউন্ডার?
রনি : এখানে আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা একই ধাঁচে মেলানোর কিছু নেই। আমি বলছি ভালো করার শেষ নেই। চেষ্টা করছি দুই বিভাগেই ভালো করার। যেন আমার দুই বিভাগের পারফরম্যান্সে দলের উপকার হয়। দলকে জেতাতে পারি। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কিছু নেই। যে আসলে ভালো করবে তার সুযোগ আগে আসবে, যে খারাপ করবে পরে আসবে।