আগামী ১ জুন (বাংলাদেশ সময় ২ জুন ভোর সাড়ে ৬টা) পর্দা উঠবে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্টের নবম সংস্করণের যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছোট ফরম্যাটের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে সর্বোচ্চ ২০ দল। সরাসরি খেলবে ১২ দল। এ ছাড়া বাছাই পর্বের বাধা টপকে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে আফ্রিকার নামিবিয়া, উগান্ডা; এশিয়ার নেপাল, ওমান; ইউরোপের আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড; আমেরিকার কানাডা এবং পূর্ব এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাপুয়া নিউগিনি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর বিশ্লেষণ নিয়ে খবরের কাগজের বিশেষ আয়োজন শুরু করে ১২ জুন থেকে। নিচের দিক থেকে শুরু হয় এই বিশ্লেষণ। এই ধারাবাহিকতায় রাখা হয়নি লাল-সবুজের বাংলাদেশকে। আজ বাংলাদেশ দলের বিশ্লেষণ দিয়ে শেষ হচ্ছে দল পরিচিতি। লিখেছেন পার্থ রায়
ফরম্যাট বদল হয়, তবে বাংলাদেশকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ নিচে নামে না। বারবার হতাশা উপহার দেওয়া টাইগারদের নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেন সমর্থকরা। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্তর আহ্বান ছিল, প্রত্যাশা না রাখার। সমর্থকরা অবশ্য দল নিয়ে ঠিকই আশায় বুক বাঁধছেন। সেই প্রত্যাশার কতটুকু শান্ত বাহিনী পূরণ করতে পারে, সেই অপেক্ষায় বাংলার কোটি ক্রিকেট প্রাণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একটা দল হয়ে পারফর্ম করতে পারছে না বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ পিছিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সিরিজ হেরেছে দল। সেই হারের ক্ষত নিয়েই বিশ্বকাপ মিশনে নামবে টাইগাররা।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ শিবিরে নেই স্বস্তি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হারের ক্ষত, অন্যদিকে ব্যাটারদের ব্যাটে নেই রানের ফোয়ারা। টপ অর্ডারে খেলা লিটন দাস, সৌম্য সরকার কিংবা নাজমুল হোসেন শান্ত খেলতে পারছেন না নিজেদের সেরা ক্রিকেট। টপ অর্ডারের নিয়মিত ব্যর্থতায় সবশেষ ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের রানের ভিত শক্ত হয়নি। তাতে বোলারদের দাপটের পরও টাইগারদের হারতে হয়েছে ম্যাচ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা খানিকটা ম্লান হয়েছে মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যাটে। প্রতি ম্যাচে তাওহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিংবা সাকিব আল হাসান ত্রাতা হয়ে উঠবেন এমন চাওয়া তো বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। ব্যাটিংয়ের এমন দুশ্চিন্তায় বোলাররা অবশ্য দিচ্ছেন স্বস্তি। ধারাবাহিক পারফর্ম করা বোলাররা বিশ্বকাপের আগে ধরে রেখেছেন তাদের ধারাবাহিকতা। তবে ম্যাচ জিততে তো দরকার সমন্বিত পারফরম্যান্স। বাংলাদেশ দল সেটা মেলাতে না পারলে ফের হতাশ হতে হবে দর্শকদের।
রঙিন পোশাকে ১৯৯৯ সালে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। এরপর থেকে প্রতিটা বিশ্বকাপে ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের নাম। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছাড়া আর কোনোবার টাইগারদের খেলা হয়নি কোয়ার্টার ফাইনালে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবস্থা তো আরও যাচ্ছেতাই। ২০০৭ সালের প্রথম আসর থেকে প্রতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের কোনোবারই খেলা হয়নি নক আউট পর্বে। বাদ পড়তে হয়েছে গ্রুপ পর্ব কিংবা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। পাশাপাশি হংকং ও স্কটল্যান্ডের মতো দলের কাছেও হারের লজ্জা পেতে হয়েছে। এবারও বাংলাদেশের গ্রুপে আছে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপে তাই বাংলাদেশকে থাকতে হবে খানিকটা সতর্ক।
‘বুড়ো’ সাকিব-রিয়াদে ভরসা
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই সেনানি সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জাতীয় দলের জার্সিতে ১ শর বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা দুই ক্রিকেটারের ওপর অনেকাংশে নির্ভর থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বোলিংয়ে স্পিন আক্রমণের নেতৃত্ব থাকবে সাকিবের হাতে। শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও তার ওপর থাকবে প্রত্যাশার চাপ। নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা এই অলরাউন্ডারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মরিয়া থাকবে শান্তর দল। অন্যদিকে লোয়ার মিডল অর্ডারে দ্রুতগতিতে রান তোলার মূল দায়িত্ব থাকবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। পাশাপাশি বিপদে হাল ধরার কাজটাও তাকেই করতে হবে। ‘বুড়ো’ হলেও দলের জয়ে বড় ভূমিকাটা তাদের দুজনের। বাংলাদেশকে অসংখ্য জয় উপহার দেওয়া সাকিব-রিয়াদ ফের জ্বলে উঠবেন বিশ্বমঞ্চে এমন অপেক্ষায় দর্শকরা।
সবগুলো আসরে খেলা সাকিব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ৪৭ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে আছে তার নাম। আর তিন উইকেট পেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে তার নামের পাশে যোগ হবে ৫০ উইকেট শিকারের কীর্তি। ব্যক্তিগত কীর্তিতে উজ্জ্বল সাকিবের জন্য এটাই হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ আসর। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও সম্ভবত খেলতে নামছেন নিজের শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ রাঙানোর জন্য তাদের দুজনকেই খেলতে হবে সেরা ক্রিকেট।
‘কঠিন’ গ্রুপে বাংলাদেশ
বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে বাংলাদেশকে পেরোতে হবে কঠিন বাধা। আগামী ৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন। পরের ম্যাচে ১০ জুন নিউইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। পরের দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ যে সহজ সেটা অবশ্য চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় না। টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলা নেপাল ও নেদারল্যান্ডসকে হারানো কঠিন হবে বাংলাদেশের জন্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে এই দুই দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে শান্তর দল। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ ও ১৭ জুন।
বাংলাদেশ দল-
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, সাকিব আল হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, তানভীর ইসলাম, শেখ মাহেদি, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।
ট্রাভেল রিজার্ভ- আফিফ হোসেন, হাসান মাহমুদ।