ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গিলের রূপকথার দুই হাত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে নতুন প্রতিপক্ষ ‘হিট ডোম’ শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, ম্যাচ কবে? ক্লোসাকে ছাড়িয়ে মেসির আরও কাছে এমবাপ্পে এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স গোলের গর্জনে চাপা ব্যাট-বল আর র‍্যাকেটের শব্দ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে শেষ ষোলোতে নরওয়েকে পেয়ে যে বার্তা দিল ব্রাজিল একের পর এক সুযোগ নষ্টের পর এমবাপ্পের গোল, প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স জালে বল জড়ালেও গোল পেলেন না এমবাপ্পে ফ্রান্সের একাদশে ৪, সুইডেনের একাদশে ২ পরিবর্তন শেষ ষোলোতে নরওয়েকে পেল ব্রাজিল, দেখে নিন ম্যাচের সময়সূচি হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ ষোলোয় নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ কেপ ভার্দে ম্যাচে গ্যালারিতে শক্তি বাড়াতে ফিফার দ্বারস্থ আর্জেন্টিনা নুসার গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নরওয়ে হামজারবাগে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা, আতঙ্কে বাসিন্দারা আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারব: কেপ ভার্দে প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে দুদক: তথ্য উপদেষ্টা চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নয়্যার লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধস, নিহত অন্তত ১৪ শিশু দুই ফুটবল পরাশক্তি, এক বেদনার গল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাস, দেশে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৮০ রোগী একদিনে হামে আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪ ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

ক্রিকেটের পুনর্জন্ম মার্কিন মুল্লুকে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:১৬ পিএম
ক্রিকেটের পুনর্জন্ম মার্কিন মুল্লুকে
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতি থেকে অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি- প্রতিটি ক্ষেত্রে শীর্ষ নাম যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব রাজনীতিতে দাপুটে দেশটা আয়োজন করেছে খেলাধুলার বড় সব আসর। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে অলিম্পিক- সব বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের অভিজ্ঞতা আছে তাদের ঝুলিতে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ক্রিকেটে। এবারই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বিশ্ব আসরের আয়োজক তারা। পূর্ণাঙ্গ আয়োজক হিসেবে নয় যৌথভাবে আয়োজন করছে এবারের আসর। তাদের সঙ্গে আয়োজক হিসেবে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার সুবাদে প্রথমবার ক্রিকেটের কোনো বিশ্ব আসরে মার্কিনিদের দেখা মিলবে। অথচ, ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাম বহু পুরোনো। বিশ্ব আসরে সুবাদে তৈরি হওয়া স্রোতে ক্ষমতাধর দেশটিতে ক্রিকেটের পুনজাগরণ ঘটবে কি না সেটা দেখার অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট দুনিয়া। পুনজাগরণ ঘটুক কিংবা না ঘটুক বিশ্ব ক্রিকেটের যুক্তরাষ্ট্রের নামটা যে বহু পুরোনো, সেটা অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বদৌলতে সবার জানা  হয়ে গেছে।

উত্তর আমেরিকায় ক্রিকেটের প্রসার মূলত ইউরোপিয়ানদের হাত ধরে। ১৪৯২ সালে কলম্বাসের হাত ধরে আবিষ্কারের পর থেকে শুরু হয় ইউরোপিয়ানদের আমেরিকা যাত্রা। সেই সুবাদে ইংল্যান্ড থেকে ক্রিকেটের প্রসার ঘটে মার্কিন মুল্লুকে। ১৭৭৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকায় ক্রিকেট বেশ ভালোভাবে ছড়িয়ে যায় আমেরিকাজুড়ে। ক্রিকেট ইতিহাস ঘাটলে বারবার দেখা মেলে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়. উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় সমানতালে ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট। দুই মহাদেশের দেশগুলোতে বারবার সফর করে ক্রিকেট খেলতে বারবার আসে ইংল্যান্ড দল। ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড সিরিজের আগে হয় অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সফর। যেই সফরগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশের নাম। 

মার্কিন মুলুকে ক্রিকেটের শুরু কিভাবে সেই সম্পর্কে অবশ্য সঠিক কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় ভার্জিনিয়ার প্রাচীন কৃষি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টোভার প্ল্যান্টেশনের ব্রিটিশ মালিক উইলিয়াম বায়ার্ডের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের শুরু। নিজের জীবনীতে তিনি ১৭০৯ সাল উল্লেখ করে জানান, ‘আমি প্রতিদিন সকাল ৬ টায় কর্নেল লুডওয়েল, ন্যাট হ্যারিসন, মিস্টার এডওয়ার্ডসের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। সেই ম্যাচগুলোতে অবশ্য মাঝেমধ্যে জিততে পারতাম। তবুও নিয়মিত সকালে ক্রিকেট খেলতাম।’

ওই ঘটনার প্রায় ১৩৫ বছর শুরু হয় ক্রিকেটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের। ১৯ শতকের মাঝে ১৮৪৪ সালে। সেই বছর যুক্তরাষ্ট্র সফর করে তাদের প্রতিবেশি দেশ কানাডা। এই সিরিজে দুই দেশের জাতীয় দল অংশ না নেওয়ায় ম্যাচগুলো পায়নি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবে ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই দুই দেশের মধ্যকার লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেবার নিউইয়র্ক সেন্ট জর্জেস ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে হয়েছিল ওই সিরিজের ম্যাচগুলো। ক্রিকেট দুনিয়ার ওই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে জয়ের শেষ হাসি ছিল কানাডার। দুই দেশের ওই দুই ক্লাবের লড়াইয়ের নাম দেওয়া হয়েছিল অটি কাপ। এখন পর্যন্ত ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো দ্বৈরথ এই অটি কাপ। দলের ঐ সফরের পর ১৮৫৯ সালে প্রথমবার উত্তর আমেরিকা ভ্রমণে বের হয় ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেটাররা। সেই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলেছিল স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসবলের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত হ্যারি রাইট খেলেন স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এটুকু তথ্যই স্পষ্ট তখন মার্কিন মুল্লুকে কতটা জনপ্রিয় ছিল ক্রিকেট। ওই সফরে স্থানীয় মার্কিন ক্রিকেটারদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের পেশাদাররা খেলেছিল পাঁচ ম্যাচ।

ক্রিকেটের ওই জোয়ারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় গৃহযুদ্ধের দামামা। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত চলা চার বছরের গৃহযুদ্ধে হারিয়ে যায় ক্রিকেটের তেজ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ক্রিকেটকে টপকে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যায় বেসবল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ইতিহাস নিয়ে রচিত দ্য টেন্টেড ফিল্ড বইয়ে ইতিহাসবিদ টম মেলভিল জানান কিভাবে ক্রিকেটকে সরিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বেসবল। মূলত, গৃহযুদ্ধের কারণে ঠিকঠাকভাবে মাঠ প্রস্তুত করে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব ছিল না।  কিন্তু বেসবল খেলতে ক্রিকেটর মতো মাঠ প্রস্তুত করার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সে কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রিকেটের পরিবর্তে বেসবলকে বেছে নেন স্থানীয় অধিবাসীরা। ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় বেসবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। এভাবেই জনপ্রিয়তায় বেসবলের কাছে হার মানে ক্রিকেট। 

তবে কী শুধু গৃহযুদ্ধের প্রভাবে হারিয়ে গেছে ক্রিকেট? সম্ভবত এর উত্তর হবে- না। অনেক ইতিহাসবিদের বিশ্বাস, ইংল্যান্ডে উৎপত্তি বলে আমেরিকানদের চরিত্রের সঙ্গে যায় না ক্রিকেট। তাহলে বেসবলের উৎপত্তি কী মার্কিন মুলুকে? সেই কারণেই কী দেশটিতে খেলাটির এতো জনপ্রিয়তা? এর উত্তরও অবশ্য- না। কারও মতে বেসবলের উৎপত্তি ইংল্যান্ডে, আবার কেউ বলে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে এটা সত্য বেসবলের আধুনিক নিয়ম কানুনের জন্ম মার্কিন মুল্লুকে। সেই সুবাদে দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা বেসবল। এমন কী বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ফুটবলকে টপকে মার্কিনিদের কাছে সব সময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বেসবল। আর ক্রিকেট তো তাদের কাছে পুরো অচেনা একটি খেলা।

বেসবলের দাপটের মাঝে শতকের পর শতক ধরে ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্লাবগুলোর মাঝে। মার্কিন গৃহযুদ্ধের অবসানের পর থেকে ২০ শতকের মাঝ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ক্রিকেটের ঐতিহ্য বাচিয়ে রাখার চেষ্টায় ছিল তারা। তবে বেসবলের দাপটে একেবারে কোণঠাসা হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। ক্রিকেটের গন্ডি ছোট হতে হতে একেবারে হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। আগে যেখানে ক্রিকেট মাঠে ছিল দর্শকের উপচে পড়া ভিড়, সেখানে মাঠে দর্শক পাওয়াটাই হয়ে ওঠে কঠিন। পুরো দেশজুড়ে যখন বেসবলের দাপট, তখন ব্যতিক্রম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দুই শহর- ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভেনিয়া। সেখানে বেশ আগ্রহ নিয়ে মাঠে উপস্থিত হতেন অসংখ্য দর্শক। তারা অবশ্য কেউ ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী। ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম থেকে সমুদ্র পথে আসা ব্রিটিশ জাহাজ শ্রমিকরা ছিলেন ওই ক্রিকেট ম্যাচগুলোর দর্শক। তাদের কল্যাণে ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভেনিয়ায় বেঁচে ছিল ক্রিকেট।

অ্যা হিস্টোরি অব ক্রিকেট ইন আমেরিকা বইয়ে টম মেলভিল জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র ব্রিটিশ মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য। সেই সুবাদে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ছিল এক হাজারের বেশি ক্রিকেট ক্লাবের অস্তিত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেসবলের আধিপত্য বাড়ায় কমতে থাকে ক্রিকেটের আবেদন। সেটা এক সময় নেমে আসে শূন্যের কোটায়। ফলে ক্রিকেট ক্লাবগুলো হয়ে ওঠে অস্তিত্বহীন। হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপান্তে চলে যায় মার্কিন ক্রিকেট। মার্কিন মুল্লুক থেকে ক্রিকেট হারিয়ে যাওয়ার খানিকটা দায় বর্তায় আইসিসির উপরও। ১৯০৯ সালে আইসিসি গঠনের সময় ক্রিকেটের শক্তিমত্তা নয়, সদস্যপদ দেওয়া হয় ক্রিকেটীয় রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। সেই সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা পায় আইসিসির সদস্য পদ। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট নেমে যায় একদম তলানিতে।

এরপরেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে চেষ্টা চলেছে মার্কিন ক্রিকেটকে জাগ্রত রাখার। ব্রাইটন থেকে আসা ইংলিশ ক্রিকেটার এডি ফিলিপস মাঝেমধ্যেই আয়োজন করতেন বিভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচের। যদিও আগ্রহ থাকত না, তবুও চলত সেই চেষ্টা। ১৯৬৩  সালে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনার জন্ম দেন গায়ক ন্যাট কিং কোল। যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার সময় সঙ্গে করে এনেছিলেন কিছু ক্রিকেট ব্যাট। এর আগে পরে নানাভাবে পুরোনো ক্রিকেট ক্রেজ জাগিয়ে তোলার কাজ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এরই অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের সবচেয়ে পুরোনো ক্রিকেট ক্লাব স্টেটেন আইল্যান্ড ক্রিকেট ক্লাব নিয়ে আসে তাবৎ সব তারকা ক্রিকেটারদের। সেই তালিকায় ছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান, পেলহাম ওয়ার্নার, এভারটন উইকসের মতো তারকারা। তবে সবচেয়ে বড় জোয়ার তৈরি হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকার ও শেন ওয়ার্নের হাত ধরে। ২০১৫ সালে তারা দুজন আয়োজন করেন এক প্রদর্শনী ম্যাচ। যেখানে ছিলেন ব্রায়ান লারা, গ্রেন ম্যাকগ্রা, ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতারদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। এরপরেই খানিকটা জেগে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। গতি বাড়ে মার্কিন ক্রিকেটে। শুরু হয় ক্রিকেটে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার প্রক্রিয়া। যেই স্রোতে আবার  পেশাদার ক্রিকেটের সূচনা হয় মার্কিন মুল্লুকে।

ক্রিকেটের এই জোয়ার তৈরির আগে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট ঢিমেতালে চলে উপমহাদেশীয় অভিবাসীদের হাত ধরে। উপমহাদেশ থেকে উত্তর আমেরিকার দেশটিতে পাড়ি জমানো অভিবাসীরা নিজেদের মতো করে আয়োজন করতেন ক্রিকেটের বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট। নিজেদের বিনোদনের জন্য ছুটির দিনে বিভিন্ন ক্লাবে ক্রিকেট খেলেন তারা। এভাবেই ফের জীবন ফিরে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। এমন কী উপমহাদেশীয় অভিবাসীদের হাত ধরে মার্কিনিরা এবার অংশ  নেবে  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আয়োজক দেশ হয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের পুরোনো জোয়ার ফিরবে কি না, নাকি ইংরেজদের তৈরি বলে ক্রিকেটকে আবারও একপাশে করে রাখে- সেটার উত্তরও মিলবে এবারের বিশ্বকাপ আসরের পর।

 

শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, ম্যাচ কবে?

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ এএম
শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, ম্যাচ কবে?
ছবি: সংগৃহীত

রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ের মাধ্যমে দিদিয়ের দেশমের দল রাউন্ড অব ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোতে তারা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর একটি গোল আসে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। 

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে লড়াই। প্যারাগুয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে।

ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে, যেখানে লরেন্ট ব্ল্যাঙ্কের গোল্ডেন গোলের মাধ্যমে ফ্রান্স জয় নিশ্চিত করেছিল।

এই ম্যাচে জয় পেলে ফ্রান্সের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে মরক্কো, যদি তারা সহ-আয়োজক কানাডাকে হারাতে পারে তাহলে।

এসজি/

ক্লোসাকে ছাড়িয়ে মেসির আরও কাছে এমবাপ্পে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ এএম
ক্লোসাকে ছাড়িয়ে মেসির আরও কাছে এমবাপ্পে
লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

সুইডেনের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।

ম্যাচের আগে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তবে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ১৮।

এই অর্জনের মাধ্যমে এমবাপ্পে এখন তালিকায় উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে, আর তার সামনে কেবল আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৯।

এমবাপ্পে ও মেসি দুজনই চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের দল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে শীর্ষস্থান দখলের লড়াই আরও জমে উঠেছে। 

এ ছাড়া চলতি বিশ্বকাপে দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন ৬। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে বেশ।

নকআউট পর্বে আরেকটি ইতিহাস গড়েছেন ফরাসি এই তারকা। বিশ্বকাপের নকআউটে তার গোল এখন ১০টি, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওকে, যাদের দুজনেরই ছিল ৮টি করে গোল।

এসজি/

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ এএম
এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। দলের হয়ে অন্য গোলটি এসেছে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। একাধিক সুযোগ নষ্টের হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তবে প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট ও গোলপোস্টে বল লেগে ফিরে আসায় তারা গোল পেতে সময় নেয়।

ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথমবার সুইডেনের জাল কাঁপালেও তা বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। মাইকেল ওলিসের দারুণ থ্রু পাসে এমবাপ্পে গোল করলেও সহকারী রেফারি পতাকা তুলে দেন।

এরপর ২৮ মিনিটে সুইডেনের আক্রমণে আলেকজান্ডার ইসাক সুযোগ পেলেও শট নিতে ব্যর্থ হন। ফ্রান্সও চাপ অব্যাহত রাখে। ৩৩ মিনিটে ওলিসের কাট-ব্যাক থেকে এমবাপ্পের শট লাগে পোস্টে, আর ৩৬ মিনিটে তার অসাধারণ বাইসাইকেল কিক ফিরে আসে পোস্টে লেগে।

অবশেষে ৪৫ মিনিটে ভাঙে গোলের অপেক্ষা। কর্নার থেকে দ্রুত পাসিং মুভে বল পেয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান। একাধিক সুযোগ নষ্টের পর স্বস্তির লিড পায় ফ্রান্স।

বিরতির পর দ্রুতই ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা।  ওলিসের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। ৬৫ মিনিটে আবারও আক্রমণে যায় ফ্রান্স, তবে ওলিসের শট ডিফ্লেকশনে বাইরে চলে যায়। ৭১ মিনিটে এমবাপ্পে সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন ওলিসে।

ওলিসে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করলেও এমবাপ্পে তা করেননি। ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৩-০। যদিও গোলে অবদান ছিল ওলিসের। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ওলিসের রক্ষণভেদী পাস বক্সে খুঁজে নেয় এমবাপ্পেকে। এরপর শান্ত মাথায় বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। তাতে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান তিনি। 

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ভিক্টর গাইকারেসের শটটি ঠেকিয়ে দেন ম্যাগনান। শেষ দিকে সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোনো দল। তাতে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশমের দল। 

এসজি/

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি নকআউট পর্বে একক আধিপত্য স্থাপন করে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এমবাপ্পে-যা এই পর্যায়ে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওকে, যাদের দুজনেরই নকআউটে ছিল ৮টি করে গোল।

এদিকে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন এমবাপ্পে। দুজনের গোলসংখ্যা ৬টি। যদিও মেসি এমবাপ্পের তুলনায় এক ম্যাচ কম খেলেছেন।

এমবাপ্পে ও মেসি দুজনই চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের দল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে বেশ। 

এসজি/ 

শেষ ষোলোতে নরওয়েকে পেয়ে যে বার্তা দিল ব্রাজিল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ এএম
শেষ ষোলোতে নরওয়েকে পেয়ে যে বার্তা দিল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এখন নরওয়ে। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নরওয়েকে স্বাগত জানিয়ে বার্তা দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল। তবে পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে হবে তা জানতে আইভরি কোস্ট-নরওয়ে ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা। সেই ম্যাচে নরওয়ে জয় তুলে নেওয়ায় এখন দুই দলের লড়াই নিশ্চিত হয়েছে।

আগামী রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে।

প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হওয়ার পর ব্রাজিল তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছে, ‘প্রতিপক্ষ নির্ধারিত! আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নরওয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য এখন নরওয়ে। রবিবার দেখা হবে। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে থাকুন।’

এসজি/