বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো সেমিতে উঠেছে লা রোজারা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।
শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের পক্ষে গোল দুটি করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি আসে চার্লস ডি কেটেলারের হেডে।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে গোল করেন মিকেল মেরিনো। তিনিই শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল করে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন। এবার শেষ মুহূর্তে গোল করে স্পেনকে সেমিতে তুললেন এই মিডফিল্ডার।
এর আগে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও স্পেন মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
এসজি/
আবারও শেষ মুহূর্তের গোল, আবারও স্পেনের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। নাটকীয় এক লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়েছে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ অভিযান।
শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। তবে ৪১ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের দারুণ হেডে সমতায় ফিরে বেলজিয়াম। তাতে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় বেলজিয়াম। বক্সের ভেতরে বল পেয়েও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি ম্যাক্সিম ডি কুইপার। তার শট চলে যায় জালের বাইরের অংশে।
এরপর দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত দক্ষতায় বদলি হিসেবে নামা সেইসকে পরাস্ত করে শট নেন, তবে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন।
পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়ামও সুযোগ তৈরি করে। জেরেমি ডোকু ডান দিক থেকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে। তবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে স্পেনের রক্ষণভাগ। এ সময় বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
৬৩ মিনিটে আবারও ইয়ামালের প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন কোর্তোয়া। একের পর এক সেভে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ধরে রাখা এই গোলরক্ষক পরে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সেন লামেন্স। অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোলের সুযোগ আসে স্পেনের সামনে। রদ্রির বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ইয়ামাল।
তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন মেরিনো। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল করে স্পেনকে জয় এনে দিয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।
এবারও গোলের পেছনে ছিল বেলজিয়ামের ভুল। বক্সের বাইরে থেকে পাউ কুবারসির নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বদলি গোলরক্ষক সেন লামেন্স। তার হাত ফসকে বল চলে যায় মেরিনোর সামনে। সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
তবে যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিট) নাটকীয়ভাবে আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। তারা আক্রমণে উঠলে অপ্রত্যাশিত ভুল করে বসেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। আক্রমণ ঠেকাতে তিনি গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা বাইরে চলে আসেন।
সেই সুযোগে বল পেয়ে যান আলেক্সিস সায়েলেমেকার্স। কোণটি কঠিন হলেও তখন সামনে ছিল ফাঁকা গোলপোস্ট। সরাসরি শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি শট না নিয়ে রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে ক্রস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার সেই ক্রস আটকে দেন আইমেরিক লাপোর্তে। ক্লিয়ার করা বল আবারও ফিরে যায় সিমনের হাতে। এমন সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় বেলজিয়ামকে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। আর কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে যায় বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
এসজি/
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। শুরুতে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে গেলেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি স্পেন। পরে চার্লস ডি কেটেলারের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হয় ম্যাচটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। তবে প্রথম দিকে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয় লা রোজারাদের।
অবশেষে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাম প্রান্তে দুর্দান্ত দক্ষতায় জেরেমি ডোকুকে পরাস্ত করে নিচু ক্রসে বল বাড়ান পেদ্রো পোরো। তার বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে শট নেন দানি ওলমো। তবে সেই প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
কিন্তু ফিরতি বল চলে আসে ফাবিয়ান রুইজের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি। শটটি তিমোথি কাস্তানিয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের জালে জড়ায়। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় তারা। লামিনে ইয়ামালের নেওয়া দুর্দান্ত শট অবশ্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।
কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণে উঠেন ইয়ামাল। দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে ডোকুকে পেছনে ফেলে কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন তিনি। তবে অল্পের জন্য সেটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
তবে স্পেনের আক্রমণের মধ্যেও সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১ মিনিটে তিমোথি কাস্তানিয়ের অসাধারণ ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ হেডে গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো স্পেনের জালে বল জড়াল কোনো দল।
এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।
প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল স্পেনের। তারা বেলজিয়ামের গোলমুখে মোট ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম ২টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
এসজি/
পর্তুগাল ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৭১ বছর বয়সী জর্জ জেসুস। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে দলটির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। এরপরই ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা কোচ রবার্তো মার্তিনেজ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নতুন দায়িত্বে এসে আবারও পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন জেসুস। গত মৌসুমে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের কোচ হিসেবে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করে দলকে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদো জানিয়েছেন, এটিই ছিল শেষ বিশ্বকাপ। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগিজ ফুটবলের প্রতীক। যতদিন সে খেলবে এবং জাতীয় দলে খেলার মতো অবস্থায় থাকবে, ততদিন তাকে দলে রাখব। অবশ্যই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং জাতীয় দলের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো, সেটাই করব।
রোনালদোর সঙ্গে এখনও কথা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এখনও তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। সে কখনোই জাতীয় দলের জন্য সমস্যা হবে না, আমার জন্যও নয়। গত এক বছরে তার সঙ্গে কাজ করে দারুণ উপভোগ করেছি। তার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ ‘ডি’-তে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগালের কোচ হিসেবে অভিষেক হবে জেসুসের।
স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক পর্তুগাল। সেই আসরকে সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেসুসকে দায়িত্ব দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন।
জেসুস ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল হিলালকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়েছেন। এর আগে বেনফিকার কোচ হিসেবে ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তিনটি পর্তুগিজ লিগ শিরোপা জিতেন। এছাড়া ২০১৯ সালে ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গোর দায়িত্বে থেকে ব্রাজিলিয়ান লিগ ও কোপা লিবার্তাদোরেসসহ পাঁচটি বড় শিরোপা জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তার।
এসজি/
শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর নীরবতা ভাঙলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রায় চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের হতাশা নিয়ে কী লিখব, তা ভাবতে হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ আমাকে সমর্থন করেছেন, আমাদের স্বপ্নকে নিজেদের স্বপ্ন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই নীরব থাকা ঠিক হতো না। তবে নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে নিতে আমার কয়েক দিন সময় দরকার ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন।’
নিজের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি জানি এই টুর্নামেন্টের জন্য কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছি, কতটা মনোযোগী ছিলাম এবং আপনাদের ও আমার পরিবারের জন্য কতটা সফল হতে চেয়েছিলাম।’
হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই ব্যর্থতার হতাশা অনেক বেশি। আমাদের এমন একটি দল ছিল, যারা আরও অনেক দূর যেতে পারত। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আবারও বিশ্বের সেরা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কার্লো আনচেলত্তির দল ২-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। এর ফলে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
এসজি/