তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ভারতকে ১১০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। এটি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সিরিজ জয় ভারতের বিপক্ষে। সবশেষ সিরিজটি জিতেছিল তারা ১৯৯৭ সালে।
দুই দলের ২১তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এসে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিজ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দুই দলের মধ্যে সিরিজ ড্র হয়েছে তিনবার।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ হয় টাই। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পায় নাটকীয় জয়। তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে এসে পাথুম নিশাঙ্কা ও আভিস্কা ফার্নান্দোর উদ্বোধনী জুটি গড়েন ৮৯ রান। নিশাঙ্কা আউট হওয়ার পর কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে আভিস্কার জুটিতে আসে আরও ৮২ রান।
১৭১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পরই নামে ধস। ৫ উইকেট হারায় তারা ২৮ রানের ভেতরেই। ৯৬ রানে আভিস্কা বিদায় নেওয়ার পর শুরু হয় এই ধস। অন্য ব্যাটার কুশল মেন্ডিস ৮২ বলে ৫৯ এবং কামিন্দু মেন্ডিস ১৯ বলে ২৩ রান করলে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে অভিষিক্ত রিয়ান পরাগ নেন ৩ উইকেট।
রান তাড়ায় নেমে স্বভাবসুলভ ঝোড়ো শুরুই করেছিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তবে অন্যদিকে ধীর গতির ছিলেন শুবমান গিল। ১৪ বলে ৬ রান করে তিনি সাজঘরের পথ ধরেন আসিথা ফার্নান্দোর বলে। দ্রুতই ফিরে যান রোহিত্ব। ২০ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। ভাল্লালাগের বলে আউট হন তিনি।
রোহিতও বেশিক্ষণ থাকেননি আর। ভারত এরপর উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত। টপ অর্ডারে কেউ স্কোর বড় করতে পারেননি, মিডল অর্ডারেও দাঁড়াতে পারেননি কেউ। রোহিতের ২০ বলে ৩৫ রানই হয়ে থেকেছে ভারতের ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর। দুনিত ভেল্লালাগে ফেরান তাকে।
এই বোলার কেবল রোহিতকে নয়, ধসিয়ে দেন পুরো ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে। ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার ২৭ রানে নেন ৫ উইকেট। রোহিতের পর নিজের শিকার বানান কোহলি, শ্রেয়াস, অক্ষর ও কুলদ্বীপ যাদবকে। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ভারত অলআউট হয় ১৩৮ রানে আর শ্রীলঙ্কা জয় পায় ১১০ রানের বড় ব্যবধানে।
আর তাতেই ২৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায় শ্রীলঙ্কা।