গোয়ালিয়রে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যথারীতি ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসেছে বাংলাদেশ দলের এক প্রতিনিধি। তিনি তরুণ তুর্কি তাওহিদ হৃদয়। প্রতিটি সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিদের মুখে থাকে বেশ কয়েকটি শব্দ। তা হলো- চ্যালেঞ্জ, পারফর্ম করতে চাই, জিততে চাই। সিরিজের ফলে পক্ষে বা বিপক্ষে যাই হোক- কথার কোনো নড়চড় হয় না। গোয়ালিয়রে হৃদয়ের কথাতেও ছিল একই সুর।
ভারত সিরিজ দিয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের কথার সুর অবশ্য একটুও স্পর্শ করে যায়নি তাওহিদ হৃদয়কে। দূরের দিকে না তাকিয়ে শুধু ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন। সে কারণে গোয়ালিয়রে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করার আশা ব্যক্ত করেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের খুব ভালো সুযোগ আছে পারফর্ম করার। আমরা অবশ্যই জিততে চাইব। এটাই, আর কিছু নয়।’ সিরিজে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই সিরিজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবাই এখানে ভালো করতে এসেছি এবং ভালো করতে চাই। আমাদেরও লক্ষ্য থাকবে যতটুকু পারব, আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করার।’
কেন জয় পেতে এতটা আত্মবিশ্বাসী হৃদয়। সেটার ব্যাখ্যাও অবশ্য ছিল তার কথায়। টেস্ট দল যখন পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে ব্যস্ত ছিল তখন ঘরের মাঠে নিজেদের প্রস্তুত করেন হৃদয়-তানজিম হাসান সাকিবরা। লম্বা সময়ের ওই ক্যাম্প প্রস্তুতিতে বড় অবদান রেখেছে জানিয়ে হৃদয় বলেছেন, ‘আমরা এখানে আসার আগে বেশির ভাগ ক্রিকেটারই দেশে অনুশীলন করেছি। আমি মনে করি আমরা সিরিজের জন্য খুবই ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি আমরা ভালো করব।’ পাশাপাশি কন্ডিশন নিয়ে তার ভাষ্য ছিল, ‘এখানকার গরম আমাদের জন্য তেমন দুশ্চিন্তার বিষয় নয়। আমরা এই গরমে খেলে অভ্যস্ত। বাংলাদেশেও একই আবহাওয়া।’
২০১০ সালের পর ১৪ বছর বিরতি দিয়ে গোয়ালিয়রে হবে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দীর্ঘ বিরতির পর বদলে গেছে গোয়ালিয়রের ভেন্যু। আগে ক্যাপ্টেন রূপসিংহ স্টেডিয়ামে খেলা হলেও এবার হবে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামে। নতুন স্টেডিয়ামে ম্যাচ নিয়ে বারবার বলা হচ্ছে, এই মাঠের উইকেট হবে রানপ্রসবা। অবশ্য তেমন কিছু ভাবছেন না হৃদয়। তার মতে, উইকেট ধীরগতির হবে এবং রান কম হবে। তার কথায়, ‘আমরা এখানে দুই দিন অনুশীলন করলাম। উইকেট কিছুটা মন্থর ও নিচু। আমরা মাঠকর্মীদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। ঘরোয়া ক্রিকেটের কিছু ম্যাচও হয়েছে এখানে। মনে হচ্ছে উইকেটটা মন্থরই হবে।’ যোগ করেন, ‘উইকেট আমার কাছে মনে হয় আগে কি হয়েছে এটা নিয়ে আমরা খুব বেশি ফোকাস না। এই উইকেট এখানে কি ডিমান্ড করে, সে অনুযায়ী আমরা এক্সিকিউশন করার চেষ্টা করব।’
পাশাপাশি এই মাঠের উইকেট নিয়ে ধারণা যে এখনো সঠিকভাবে পায়নি বাংলাদেশ দল সেটাও স্পষ্ট হৃদয়ের কথায়। তিনি বলেছেন, ‘সব দলই রান করতে চায়। এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখনো হয়নি। নতুন ভেন্যু, আমরা জানি না এখনাকার ব্যাপারে। ডমেস্টিক ডমেস্টিক খেলা, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল খেলা। আমি মনে করি যে এখানে আমাদের খেলাটা শুরু হলে বুঝতে পারব, উইকেট কেমন হয়।’
গত পরশু সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন ভারত সিরিজ থেকে বাংলাদেশ দলের অ্যাপ্রোচে পরিবর্তন থাকবে। ফলে পরিকল্পনায় যে পরিবর্তন আসতে পারে সেটা স্পষ্ট। তবে হৃদয় বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, ‘দলের পরিকল্পনা তো এখানে বলতে পারব না। পরিকল্পনাটা আমাদের ভেতরেই থাক।’ পাশাপাশি প্রতিপক্ষ নিয়ে কেমন চিন্তা করছে বাংলাদেশ সেই প্রশ্নের জবাবেও স্পষ্ট কিছু বলেননি হৃদয়। তার কথায়, ‘আমরা যখন মাঠে খেলতে নামি তখন প্লেয়ার কে আছে কে নাই, এগুলো ওভাবে মাথায় কাজ করে না। আমরা সবসময় আমাদের দিকটা লক্ষ্য রাখি। আমাদের যে প্রক্রিয়া আছে সেগুলো মেইনটেইন করার চেষ্টা করি।’
সর্বশেষে হৃদয় জানান, ভারতকে হারানোর সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ায় স্বাগতিকদের ছোট করে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘সুযোগ আছে হারানোর, এমন না যে তাদের বড় টিমকে আমরা হারাইনি। বড় টিম ছোট টিম বলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয় নির্দিষ্ট দিনে যে ভালো করবে সেই (জিতবে)।’