ওয়ানডে সংস্করণে কেউ ২০০ রানের ইনিংস খেলবেন- ২০১০ সালে অন্তত এমনটা কেউ ভাবতে পারেনি। গোয়ালিয়রের ক্যাপ্টেন রূপসিং স্টেডিয়ামে সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি স্পর্শ করেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। ওয়ানডে ক্রিকেটের ওই দারুণ কীর্তির পর গোয়ালিয়র উপেক্ষিত ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন থেকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের কোনো ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি শহরটিতে। মূলত গোয়ালিয়রে মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কোনো মাঠ না থাকায় তৈরি হয়েছিল এই অপেক্ষার। সবমিলিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতি দিয়ে ক্রিকেট আবার ফিরছে গোয়ালিয়রে। প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে ভেন্যুরও। এবারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যাপ্টেন রূপসিং স্টেডিয়ামে নয়, হবে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামে। চলতি বছরের জুনে উদ্বোধন হওয়া মাঠে এই ম্যাচের আগে বড় কোনো ম্যাচ আয়োজিত হয়নি।
গোয়ালিয়রে খেলা পড়েছে অনেকটা ভাগ্যের জেরে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির ভেন্যু ছিল মূলত ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম। ওই মাঠে সংস্কারকাজ চলায় শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন করে আনা হয় গোয়ালিয়রে। শহর থেকে খানিকটা দূরে মধ্য প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমপিসিএ) অধীনে তৈরি হয়েছে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়াম। গোয়ালিয়রে থাকা আগের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠ ক্যাপ্টেন রূপসিং স্টেডিয়াম ছিল না এমপিসিএর অধীনে। ফলে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এই স্টেডিয়াম। তিন দিকে পাহাড়ঘেরা এই স্টেডিয়াম সম্পর্কে দুই দলের ক্রিকেটারদের ধারণা প্রায় শূন্যের কোটায়।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এখন পর্যন্ত এই মাঠে রঞ্জি ট্রফি কিংবা আইপিএলের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি। চলতি বছরের জুনে উদ্বোধনের পর এই মাঠে মধ্য প্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজন করা হয়েছে। ওই টুর্নামেন্টের ১২ ম্যাচের সবগুলো হয়েছে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া স্টেডিয়ামে। ওই টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই হয়েছে হাই স্কোরিং। তাতে খানিকটা আন্দাজ করা যাচ্ছে আজ বাংলাদেশ ও ভারত ম্যাচে হতে পারে রানবন্যা। এমনকি কোনো দলের রান আড়াই শর ওপরে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ এই মাঠে হওয়া মধ্য প্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগের একাধিক ম্যাচে দলীয় সংগ্রহ আড়াই শর ওপরে হয়েছে।
এমন রানপ্রসবা টুর্নামেন্ট উপহার দেওয়া মাঠের উইকেটকে অবশ্য ধীরগতির মনে হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ হৃদয় গোয়ালিয়রে দুই দিনের অনুশীলনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘অনুশীলনে উইকেট দেখে বুঝেছি এখানে উইকেট স্লো আছে, লো আছে, এরকম উইকেটে বড় রানের ম্যাচ খুব কমই হয়। আইপিএল খেলাও এখানে হয়নি। তো দেখা যাক যে কি হতে পারে।’