নিজের ইনিংসের প্রথম বলে চার, পরের বলে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে উপরে বল তুলে আউট লিটন দাস। এতেই শুরু বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের ধস। ব্যাটিং কিংবা বোলিং- কোনো বিভাগেই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১২৭ রান করা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারে ৭ উইকেটে। প্রতিপক্ষ বোলারদের দর্শক বানিয়ে ভারত জয় নিশ্চিত করে ৪৯ বল হাতে রেখে। এমন হারের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে হারের জন্য নিজেদের বাজে ব্যাটিংকেই দোষ দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
চলতি বছর খেলা ১৯ ওয়ানডে ওপেনিং জুটিতে পাঁচবার বদল এনেছে বাংলাদেশ। খেলিয়েছে ৫ জন ওপেনারকে। তবুও ওপেনিংয়ে বলার মতো সাফল্য পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই ধারাবাহিকতা ছিল গোয়ালিয়রে টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও। ওপেনারদের পাশাপাশি মিডল অর্ডারেও ছিল ব্যাটিং ধস। তাতে বাংলাদেশের ইনিংস থামে মাত্র ১২৭ রানে। এত অল্প রানে ইনিংস থামার পেছনে শুরুটা ভালো না হওয়ার দায় দেখেন অধিনায়ক শান্ত।
তার কথায়, ‘আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে ভালো শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আমরা করতে পারিনি।’ গোয়ালিয়রে গতকাল প্রথম টি-টোয়েন্টির পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৩৯ রান। এই রান তুলতে আবার হারিয়ে বসে ২ উইকেট। এটা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ৬ ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে আমরা ভালো করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা। যেভাবে আমরা খেলতে চেয়েছিলাম তাতে আমাদের কয়েকটা ওভার ভালো খেলা দরকার ছিল।’
গোয়ালিয়রে ম্যাচ হারা বাংলাদেশের এখন লক্ষ্য দিল্লিতে ভালো পারফর্ম করা। আগামী ৯ অক্টোবর দিল্লির ওই ম্যাচে আরও ভালো পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের আজকের (গতকাল) পরিকল্পনা পোক্ত ছিল না। পরের ম্যাচে আমাদের আরও পোক্ত পরিকল্পনা করতে হবে।’ আর কোথায় নিজেদের উন্নতি করতে হবে সেটা জানিয়ে বলেন, ‘স্ট্রাইক বদলে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। এভাবে যদি আমরা উইকেট হাতে রাখতে পারি তাহলে রান আসবে। যেটা আমরা আজকে করতে পারিনি।’
দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে একই পথে হেঁটেছে বোলাররাও। এক মুহূর্তের জন্য স্বাগতিক ব্যাটারদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতির তৈরি করতে পারেনি। এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন রিশাদ হোসেন। ৩ ওভারে তার খরচ ছিল মোটে ২৬ রান। তাকে নিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘রিশাদ ভালো বল করেছে এবং মোস্তাফিজও ভালো করেছে।’
অন্যদিকে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দলের জয়ে কৃতিত্ব দিয়েছেন তরুণ ক্রিকেটারদের। তার কথায়, ‘ব্যাটাররা যেভাবে নিজেদের ক্যারেক্টার দেখিয়েছে সেটা দারুণ। বিশেষ করে নতুন মাঠে যেভাবে ব্যাটিং করেছে এটা অকল্পনীয়।’ ম্যাচ জিতেও অবশ্য নিজেদের নিয়ে তৃপ্ত হতে চান না সূর্যকুমার। তিনি বলেন, ‘এখনো উন্নতির অনেক জায়গা আছে। পরের ম্যাচের আগে আমাদের এসব কাটিয়ে উঠতে হবে। পরের ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়ে এটা নিয়ে কথা বলতে হবে।’
গোয়ালিয়রে বল হাতে বাংলাদেশকে থামিয়ে দেওয়ার মূল নায়ক ছিলেন ভারতীয় পেসার আর্শদ্বীপ সিং। মাত্র ১৪ রানে তার শিকার ছিল ৩ উইকেট। এমন দারুণ বোলিংয়ের পর ম্যাচসেরা হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে উইকেট পেতে চেয়েছি সেভাবে উইকেট পাইনি।’ কীভাবে উইকেট পেয়েছেন সেটার ব্যাখ্যায় আর্শদ্বীপ বলেন, ‘রান আপ ও হাতের অবস্থানে অনেকটা পরিবর্তন এনেছি। এটার কারণে আমি আজকে (গতকাল) সফল হয়েছি। আমি দিনকে দিন এসব উন্নতির চেষ্টা চালাচ্ছি।’ পাশাপাশি অভিষিক্ত পেসার মায়াঙ্ক যাদবের প্রশংসাও ছিল তার কণ্ঠে। এই নিয়ে তার ভাষ্য ছিল, ‘ম্যাচে সবাই দারুণ বোলিং করেছে। বিশেষ করে মায়াঙ্ক দারুণ করেছে।’