স্যান্টনারের দুই ইনিংসেই ফাইফার। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করে দলকে এনে দিয়েছিলেন ১০৩ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করে দলকে এনে দিয়েছেন ১১৩ রানের জয়ের পাশাপাশি সিরিজ জয়ের আনন্দও। যা কিনা আবার প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের আনন্দ।
২০১২ সালের পর প্রথমবার ঘরের মাটিতে সিরিজ হারলো ভারত। এই ১২ বছরে ১৮ সিরিজে অপরাজিত ছিল টিম ইন্ডিয়া।
তৃতীয় দিন দলের বোর্ডে ৫৭ রান যোগ হতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে ৩৫৮ রানের লিড দাঁড় করিয়ে ভারতকে ৩৫৯ রানের লক্ষ্য দেয় কিউইরা। পুনের স্পিনিং উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে এই লক্ষ্য অনেক কঠিন হয়ে যায় ভারতের জন্য।
রোহিত শর্মা এই ইনিংসেও ব্যর্থ হন ৮ রান করে। ম্যাচের নায়ক মিচেল স্যান্টনারেরই শিকারে পরিবণত হন তিনি। ভারতের প্রথম ৬ উইকেটের সবকটিতেই অবদান ছিল স্যান্টনারের। গিলকে তিনি আউট করেন মিচেলের ক্যাচ বানিয়ে দলীয় ৯৬ রানে। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা ভারত সেই রান সংগ্রহ করে ১৬ ওভারের আগেই।
ভারতের হয়ে এই দ্রুত রান সংগ্রহ করছিলেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। তার মারকুটে ইনিংসেই কিউইদের স্পিনের বিপক্ষেও জয়ের কিছুটা আশা দেখছিল ভারত। কিন্তু ৩ ছয় ও ৯ চারে ৬৫ বলে ৭৭ রান করা জয়সওয়ালও থামেন স্যান্টনারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়।
কোনো রান না করেই রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ঋষভ পন্ত। এই আউটের শিকার হন তিনি স্যান্টনারের দ্বারাই। ১২৭ রানে ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। স্যান্টনারের সামনে পাত্তা পাননি বিরাট কোহলিও। ৪০ বলে ১৭ রান করে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। তার বিদায়ে ১৪৭ রানে ৫ উইকেট হারায় ভারত।
আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান সরফরাজ খান এই টেস্টের দুই ইনিংসেই হন ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ১১ রান করার পর আজ করেন ৯ রান। তাকে বোল্ড করে স্যান্টনার দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের ফাইফার অর্জন করেন। ততক্ষণে ভারত হারিয়ে বসে ষষ্ঠ উইকেট। ভারতের হয়ে প্রথম ইনিংসের নায়ক ওয়াশিংটন সুন্দরকে ফেরান গ্লেন ফিলিপস। তিনি করেন ২১ রান। অশ্বিন ও জাদেজার ৩৯ রানের জুটি ভাঙেন সেই স্যান্টনার। ১৮ রান করে অশ্বিন মিচেলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ৮ উইকেট হারিয়ে হারের প্রহর গুনতে থাকে ভারত।
২৪ বলে ১ রান করে আজাজ প্যাটেলের বলে আউট হন আকাশ দীপ, তাতে ৯ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। আর ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ রান করা জাদেজা পরাজয় মেনে নিয়ে হারের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারে ধরা পড়েন সাউদির হাতে। আজাজ প্যাটেলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন জাদেজা। আর ২৪৫ রানে অলআউট হয়ে ১১৩ রানে পরাজিত হয় ভারত।
এই জয়ে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ তে জিতে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। ৩৩ রান ও দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন মিচেল স্যান্টনার।