ঋষভ পন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন লড়াই। তার লড়াইয়েই হয়তো ভারত বেঁচে যাবে ধবলধোলাইয়ের লজ্জার থেকে, এমনটা মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। পন্ত সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন, আকাশ দ্বীপ ও ওয়াশিংটন সুন্দরের বিদায়ে ২৫ রানে হেরে ধবলধোলাই হয়েছে ভারত।
প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ধবলধোলাইয়েরও আনন্দ কিউইদের। সবশেষ ২০০০ সালে ভারতের মাটিতে ভারতকে টেস্টে ধবলধোলাই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটি ছিল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এর মানে হলো প্রথম দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডই ভারতের মাটিতে ভারতকে প্রথমবার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছে।
তৃতীয় দিনের শুরুতে নিউজিল্যান্ড অলআউট হয়ে গেলে ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৪৭ রানের। ঘরের মাঠে দুই টেস্ট হারলেও ভারতের জন্য এই মামুলি লক্ষ্য টপকে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয় মনে হলেও, আগের দুই টেস্টের মতোই কিউই বোলারদের কাছে আত্মসমর্পণ করে ভারতের ব্যাটাররা।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুই টেস্টই নিউজিল্যান্ড জিতেছে নিজেদের স্পিন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে। শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট শিকার করেছেন আজাজ প্যাটেল। দুই ইনিংসেই ভারতকে ধসিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি ১১ উইকেট শিকার করে।
ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ধাক্কাটা খায় রোহিতের বিদায়ে। সিরিজজুড়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। আউট হয়েছেন ১১ রান করে হেনরির বলে। শুভমান গিল ও বিরাট কোহলির আউটে ১৮ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। এই দুই ব্যাটারকেই সাজঘরে পাঠান আজাজ প্যাটেল।
মাঝে ফিলিপসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ফর্মে থাকা যশস্বী জয়সওয়াল। তিনি করতে পারেন ৫ রান। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানো ভারতের ওপর আবারও চেপে বসে আজাজ প্যাটেল। ফলে ১ রান পরেই ২৯ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
বড় শট খেলতে গিয়ে রাচিনের হাতে ক্যাচ দেন সরফরাজ খান। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ঋষভ পন্ত। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি, সেই প্যাটেলের বলেই জাদেজা ক্যাচ দেন উইল ইয়াংকে। করেন তিনি মাত্র ৬ রান। ৭১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত।
কিউইদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে যাওয়া ঋষভ পন্ত তুলে নেন অর্ধশতক। ৬৪ রানে থাকা অবস্থায় ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ দেন টম ব্লুন্ডেলকে। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নেয় টম লাথামরা। টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অনফিল্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে ফাইফার পূর্ণ হয় আজাজ প্যাটেলের। জয় থেকে ৪০ রান দূরে থাকতে ৭ উইকেট হারায় ভারত।
অশ্বিনের ওপর আশা করেও লাভ হয়নি। কিউইদের স্পিন বিষে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে গ্লাভসে লেগে আটকা পড়েন ব্লুন্ডেলের গ্লাভসে। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। ১২১ রানে ৮ উইকেট হারানো ভারত ১২১ রানেই অলআউট হয় শেষ পর্যন্ত আকাশ দ্বীপ ও ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হলে। আকাশ ফিলিপসের বলে বোল্ড হন আর প্যাটেলের ষষ্ঠ শিকারে পরিণত হন ওয়াশিংটন সুন্দর।
১১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আজাজ প্যাটেল আর ঐতিহাসিক সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন উইল ইয়াং। তিন টেস্টে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৪৪ রান।