পাবনার ঈশ্বরদীতে আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর ফলে ধানগাছের গোড়ায় পচা রোগ দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া শ্রমিকের মজুরি, তেল ও সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় শত শত বিঘা জমিতে আমন আবাদ হয়ে থাকে। আমনের চারা রোপণ শুরু হয় জুলাই মাস থেকে। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৮ টন। তবে পোকার আক্রমণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে কৃষকরা সংশয় প্রকাশ করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার দাশুড়িয়া, সলিমপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমনের আবাদ। মৌসুম শুরু হওয়ার প্রথম দিকে রোপণ করা আমন ধানের শীষ আসতে শুরু করেছে। তবে এসব ধানের শীষে মাজরা পোকার আক্রমণ ও কিছু গাছের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। কৃষকরা পোকার আক্রমণ এবং পচন থেকে ধানগাছ রক্ষা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বছর পোকার আক্রমণ দেখা যায়। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি বেশি খারাপ।
ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা গ্রামের আনিসুর রহমান আদম বলেন, ‘এবার তিনি ১২ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় ১৬-১৭ মণ ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন। বীজ, সার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘পোকার আক্রমণ থেকে ধান রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যদি ধান রক্ষা না হয়, তাহলে ফলন কম হবে এবং লোকসান গুনতে হবে।’
সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের আমন চাষি বসির উদ্দিন বলেন, ‘আমন খেতে মাজরা পোকার আক্রমণ ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। আমি কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। তবে আমন খেত পুরোপুরি পোকামুক্ত হয়নি। গোড়া পচা রোগের বিরুদ্ধে কীটনাশক প্রয়োগের কার্যকারিতা কম।’
দাশুড়িয়া ইউনিয়নের আথাইলশিমুল গ্রামের আমন চাষি বাবলু মিয়া বলেন, ‘আমন আবাদের খরচ দিন দিন বাড়ছে। সার, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে পোকার আক্রমণ ও গোড়া পচন রোধে কীটনাশক কেনার খরচও বাড়ছে। যদি এসব সমস্যা সমাধান না হয়, তাহলে উৎপাদন কম হবে এবং বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসবে না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, এবার ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৬৭৮ টন। কৃষকদের সময়মতো সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধানগাছে মাজরা পোকার আক্রমণ প্রতি বছরই ঘটে। তবে কৃষকরা সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে কীটনাশক ব্যবহার করলে পোকা দমন ও গোড়া পচন রোধ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’