ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক

জবির 'বি' ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৫ পিএম
জবির 'বি' ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে 'বি' ইউনিটের (কলা ও আইন অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিন শিফটে (সকাল ৯টা, দুপুর ১টা, বিকেল ৪টা) এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এই ইউনিটে আসন সংখ্যা ৭৮৫টি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা গভ. মুসলিম হাই স্কুল কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বি-ইউনিটের (কলা ও আইন অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৪২ হাজার ৯৭৪ জন পরীক্ষার্থীর জন্য আসন বিন্যাস করা হয়। ১ম ও ২য় প্রতি শিফটে ১৫ হাজার ১৩৮ জন করে এবং ৩য় শিফটে ১২ হাজার ৬৯৮ জন পরীক্ষার্থীর আসন বিন্যাস করা হয়। ১ম ‍শিফটে ৮৭ শতাংশ, ২য় শিফটে ৮৬ শতাংশ ও তৃতীয় শিফটে প্রায় ৭৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তিন শিফটের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো ছিলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সন্তোষজনক ছিলো এবং পরীক্ষা আয়োজনে সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ছিলো ২৪ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ছিলো ৪৮ নম্বর। পরীক্ষার বিষয় ছিলো বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান।

এর আগে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জবির 'ডি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এবং 'সি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

 

মুজাহিদ/মেহেদী/

রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস এম আব্দুছ ছালাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুছ ছালাম (৬১) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ড. এস এম আব্দুছ ছালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে তিনি আরবি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিক্ষা ও গবেষণায় তার অনন্য অবদান রয়েছে। তার রচিত একাধিক গ্রন্থ এবং উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান সাময়িকী ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় বলেন, শিক্ষা, শিক্ষার্থীবৎসলতা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মরহুম অধ্যাপক ড. আব্দুছ ছালামের অসামান্য অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তার এই প্রস্থান উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

​শোকবার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শাকিবুল/এএফ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটকে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় স্থানীয় পথচারীরা ব্যানারটি প্রথম দেখতে পান।

ব্যানারটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তামিম হাসান এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে কে বা কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখেছি রাত আনুমানিক ৩টার সময় দুইজন প্রধান ফটকের দেয়ালে ব্যানার টানিয়ে ছবি তুলেছে এবং খুলে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং তারা তা বের করতে কাজ করছে। তবে আমার মনে হয় এটা তারা নিজেদের হাইলাইট বা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের প্যানিক করার জন্য করেছে।

শাকিবুল/এএফ

র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ এবং ২৬ ব্যাচের ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে হাবিপ্রবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে নতুন ভর্তি হওয়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে র‌্যাগিংয়ে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ওই দুটি ব্যাচের ৭২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসন এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।

র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে র‌্যাগিংয়ের অপসংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে প্রশাসন কঠোর হস্তে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

শোকজের নোটিশ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভেটেরিনারি অনুষদের ২৬ ব্যাচের ২৬ জন, ২৫ ব্যাচের ১৩ জন, ইইই বিভাগের ২৬ ব্যাচের ২১ জন, ২৫ ব্যাচের ১০ জন এবং কৃষি অনুষদের ২৫ ও ২৬ ব্যাচের ১ জন করে ২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে ক্যাম্পাসের পাশে বিসিএস গলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন কর্ণাই গ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর পাড় এবং আবাসিক মেসে নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে র‌্যাগিংয়ের খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।

এ সময় টিমের সদস্যরা র‌্যাগিংয়ের প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। র‌্যাগিংয়ে প্রত্যকটি ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ এবং ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাদের প্রত্যেকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। শোকজ নোটিশে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের ৭২ জনের প্রত্যেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে স্ব-শরীরে  কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বাসসকে বলেন, 'র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে।'

শোকজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। একই ঘটনায় ওই কক্ষের চার আবাসিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১লা জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হলের ওয়ার্ডেন সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এবং সহকারী অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন। কমিটিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

হল প্রশাসন জানায়, ২ জুলাই চার শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের আরিফ হাসনাত শামীম, রসায়ন বিভাগের ৫২তম ব্যাচের মো. গিয়াসউদ্দিন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মো. রাকিব এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের সাদ আব্দুর রহমানকে পৃথকভাবে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ জুন হলের তৃতীয় তলার ‘এ’ ব্লকের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় একটি কালেমা খচিত পতাকা টানানো দেখা যায়। পরে এ–সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কক্ষটির আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে এ ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারেন না। আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন বলেন, “আজ আমরা প্রথম বৈঠক করেছি। চার শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, তবে বাকিদের পাওয়া যায়নি। তাই সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দেবেন। এরপর সোমবার আবার বৈঠকে বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে লিখিত বক্তব্য পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে এবং দাওয়াতের নিয়তে পতাকাটি টাঙিয়েছিলাম। মানুষ ফুটবল নিয়ে যেভাবে মত্ত হয়ে আছে, সেখান থেকে ধর্মীয় সচেতনতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, পতাকাটি প্রায় দুইদিন টানানো ছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে সেটি নামিয়ে ফেলা হয়।

তালেবান বা অন্য কোনো উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে পতাকাটির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ ধরনের কোনো প্রশ্নই আসে না।”

তদন্ত কমিটির বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, পরীক্ষার কারণে তিনি প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হল প্রশাসনের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিতভাবে দেবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত একটি পতাকা টানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসনের নির্দেশে পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয়।

আমানউল্লাহ/নাঈম

ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারি ২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭টি প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ শনাক্ত ও গণনা করে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রজাতির ভিত্তিতে ৫৮ শতাংশ দেশি এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। তবে বৃক্ষ সংখ্যার ভিত্তিতে দেশি ও বিদেশি বৃক্ষের অনুপাত যথাক্রমে ৫৪ শতাংশ ও ৪৬ শতাংশ।

সর্বাধিক আধিক্যসম্পন্ন ১৫টি বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি এবং সেগুন উল্লেখযোগ্য।

শুমারি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বৃক্ষসমূহের মোট ভূ-উপরিভাগীয় জীবভর ৯,৯০০ মেট্রিক টন এবং ভূ-নিম্নীয় জীবভর ২,৩৭০ মেট্রিক টন। এসব বৃক্ষের মাধ্যমে মোট ৪,৬৫০ মেট্রিক টন কার্বন মজুদ রয়েছে। জীবভরের ক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি বৃক্ষের অবদান যথাক্রমে ২১.৫ শতাংশ এবং ৭৮.৫ শতাংশ।

উপযোগিতার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ ২৫ শতাংশ, প্রাণিকূল সহায়ক বৃক্ষ ২২ শতাংশ, ঔষধি বৃক্ষ ২১ শতাংশ, কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ ২০ শতাংশ এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ ১২ শতাংশ।

বৃক্ষের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে মোট ১,৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে এবং ২,২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য বৃক্ষজনিত বিপর্যয় শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি ক্যাম্পাসে পরিণত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা নির্মল পরিবেশে স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণ, ফলজ ও উপকারী গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ক্যাম্পাস গঠনে বৃক্ষ শুমারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাছড়া ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পর্যায়ক্রমে নতুন বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরসহ আরও অনেক উপস্থিত ছিলেন।  

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

২০২৫ সালে পরিচালিত এ শুমারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পাঁচটি প্রধান জরিপ একক এবং ৪৫টিরও বেশি উপ-এককে বিভক্ত করে প্রতিটি বৃক্ষের তথ্য ডিরেক্ট মেজারমেন্ট মেথড অনুসরণ করে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, জীবভর, কার্বন মজুদ এবং অন্যান্য সূচক নিরূপণ করা হয়।

একইসঙ্গে গুগল মাই ম্যাপস এবং এআরসিজিআইএসের সহায়তায় একটি উন্মুক্ত, ডিজিটাল ও মানচিত্রভিত্তিক বৃক্ষ ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে।

এই শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, পরিবেশগত অবদান, কার্বন মজুদ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং স্থানিক অবস্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরিফ জাওয়াদ/এএফ