চট্টগ্রামে বিচারককে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নুরে হুদা বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় সাইবার আইনে মামলার এজাহার দায়ের করলে থানা-পুলিশ সেটিকে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে।
মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় চৌধুরী (২৪) সাতকানিয়া থানার কালিয়াইশ এলাকার জনৈক চন্দন চৌধুরীর ছেলে।
তিনি বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার কুতুপালংয়ে এপিবিএনে কর্মরত রয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নুরে হুদা বলেন, আসামির বিরুদ্ধে গত বছর ১৯ জুলাই তার স্ত্রী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে যৌতুক দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথমে আদালত সমন জারি করেন। সমন পেয়েও আসামি হাজির না হওয়ায় একই বছর ২০ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পর তিনি একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর পর ওই মামলার বাদীর হোয়াটঅ্যাপে আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কূরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকে। এ ঘটনায় তদন্ত করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত। ওই ইউনিটের এসআই সাইদুর রহমান গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আদালতে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দেন।
গতকাল (২৯ জানুয়ারি) যৌতুকের মামলায় হাজিরা দিয়ে তার অস্থায়ী জামিন স্থায়ী করার দরখাস্ত করে মহানগর হাকিম জুয়েল দেবের আদালতে হাজির হন সঞ্জয় চৌধুরী। এ সময় বিচারক তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নুরে হুদা বলেন, ‘সোমবার (২৯ জানুয়ারি) আমি বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৯ ও ৩০ ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করি।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নিশান চাকমা খবরের কাগজকে বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তার তথ্য-প্রমাণ আমলে নিয়ে আদালতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তে বক্তব্যগুলো ওই পুলিশ কনস্টেবলের বলে প্রমাণ হয়েছে। আদালতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচারক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন।’
নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার অতনু চক্রবর্তী বলেন, ‘বিচারকের বেঞ্চ সহকারী মামলার এজাহার জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, এ অভিযোগ সাইবার আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য নয়। এ জন্য নিয়মিত মামলার পরিবর্তে জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন অভিযোগে জিডিমূলে তদন্ত হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
মনির/ইসরাত চৈতি/অমিয়/


