ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সার্ভারের ধীরগতির কারণে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ছুটি থাকায় যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় সার্ভার দুর্বলতার অন্যতম কারণ বলে দাবি ইমিগ্রেশন পুলিশের।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে একজন যাত্রীর ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগত। অথচ বুধবার সার্ভারের ধীরগতির কারণে ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় বেশি লেগেছে।
চিকিৎসার জন্য মাকে নিয়ে ভারতগামী যাত্রী নরসিংদীর আরিফ হোসেন জানান, ‘অসুস্থ মাকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। যে কচ্ছপ গতিতে কাজ চলছে মনে হচ্ছে আরও এক ঘণ্টা লাগবে।’
কুমিল্লার বিশু নাথ নামে এক যাত্রী জানান, ‘স্ত্রী ও দুই শিশুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি দুই ঘণ্টা ধরে। এমন ভোগান্তিতে আগে কখনো পড়িনি।’
মিতালী বসাক নামের এক ভারতীয় যাত্রী জানান, ‘ট্রেন ধরব বলে সকালেই ইমিগ্রেশনে চলে আসি। এখানে যেভাবে কাজ চলছে মনে হয় কাজ শেষ করতে আরও দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। ট্রেন পাব না নিশ্চিত করেই বলা যায়।’
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, আখাউড়া ইমিগ্রেশন অফিসে তিনটি কম্পিউটার ডেস্ক রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ডেস্কে বহির্গমন এবং এটিতে আগমনী যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বুধবার সকাল থেকে যাত্রী চাপ বেড়েছে। এতে করে সার্ভার ধীর হয়ে যায়। যেখানে কাজ করতে ১-২ মিনিট লাগত সেখানে একই কাজ করতে সময় লাগছে ১৫-২০ মিনিট। এ সময় ভারত-বাংলাদেশগামী শত শত যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে।
সন্ধ্যায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক দেওয়ান মুর্শেদুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে এই ইমিগ্রেশন দিয়ে প্রায় ৮০০ যাত্রী পারাপার হয়। বুধবার যাত্রী পারাপার বেড়ে যাওয়ায় সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি আমাদের ইমিগ্রেশন সার্ভারের ক্ষমতা কম। ফলে যাত্রীদের চাপে ইমিগ্রেশন সম্পূর্ণ করতে অনেক বেশি সময় নেয়।’
জুটন বনিক/সাদিয়া নাহার/অমিয়/


