অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তার যোগসাজশে রেলের ২০০টি পুরোনো কাঠের স্লিপার চুরি করে ট্রাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল (৩৩) ও আব্দুর রাজ্জাক নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার তাদের আটক করেন।
আটক সোহেল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ মাহামুদাবাদ গ্রামের নূর আলম সুকানির ছেলে ও আব্দুর রাজ্জাক পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আরামকাঠি গ্রামের সিকান্দার আলীর ছেলে।
এদিকে চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় আটক দুই যুবকের সঙ্গে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ওয়ে) মনিরুল ইসলামের নামেও মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নং প্ল্যাটফর্মের পূর্ব দিক থেকে একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল ট্রাকে করে রেলের ২০০টি কাঠের স্লিপার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা চৌকির ওসি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মালামালসহ দুই যুবককে আটক করে। এ সময় স্লিপার বহনকারী ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা চৌকির ওসি আবু সুফিয়ান খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্লিপারগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের পূর্ব দিকে স্তূপ করে রাখা ছিল। আখাউড়া রেলস্টেশনে বসে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুলের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্লিপারগুলো কেনার গোপন চুক্তি হয়। আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছেন। অভিযান চলাকালে মনিরুল আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন।’
শুক্রবার বিকেলে আখাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক ও অফিসার ইনচার্জ খন্দকার জসিম উদ্দিন বলেন, আটকদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আটক করা হবে।


