চট্টগ্রামে প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে দুজন জরায়ুমুখ ক্যানসার ঝুঁকিতে আছেন। চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিআইএমসি) ‘জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব ও নমুনা পরীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণায় সম্প্রতি এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিআইএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১১০ জন নারীর মধ্যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এদের মধ্যে ২২ জনের ক্যানসার-পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা মোট রোগীর ২০ শতাংশ। জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত ৪১ শতাংশ নারী ৪০ থেকে ৪৯ বছর এবং ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত নারীদের মধ্যে ৬১ শতাংশের চারজনের বেশি সন্তান আছে এবং ৪০ শতাংশ নারীর বিবাহ সময়কাল ১০ বছরের বেশি।
সিআইএমসি হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন সিআইএমসি হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয়প্রধান প্রফেসর ডা. নাসরিন বানু, বিভাগীয়প্রধান ডা. মুসলিনা আখতার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীমা আকতার এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসলিমা আকতার। প্রধান গবেষক ও সিআইএমসির গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা চৌধুরী জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫-৫৫ বছর বয়সী নারী ও অধিক সন্তান প্রসবকারী নারীরাই জরায়ুর মুখে ক্যানসারের অধিক ঝুঁকিতে। ৬৫ শতাংশ নারীদের মধ্যে তলপেটে ব্যথা এবং ৬৩ শতাংশ নারীর মধ্যে অতিরিক্ত সাদা স্রাবের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে এটি শতভাগ নিরাময়যোগ্য রোগ। দরকার কেবল সচেতনতা। ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৮ সাল থেকে ২০৩০-এর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার মুক্ত বিশ্ব’ শীর্ষক স্লোগান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিআইএমসি হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত আছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ-জাতিকে জরায়ুমুখ ক্যানসারমুক্ত বিশ্ব গড়তে সাহায্য করবে।
সিআইএমসি হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘সারভাইকাল ক্যানসারটি একটু সচেতন-সতর্ক হলেই শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ জন্য আমরা মনে করি, হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার স্ক্রিনিং পদ্ধতিগুলোকে নারীদের জন্য সহজলভ্য করা, কিশোরীদের এইচপিভি ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পিতামাতাকে উদ্বুদ্ধ করা এবং জনগণের মধ্যে ক্যানসার সচেতনতা তৈরি করা। এর মাধ্যমে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল সম্ভব।’
জানা যায়, বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যানসার নারীদের দ্বিতীয় প্রধান রোগ। দেশে প্রতিবছর জরায়ুমুখ ক্যানসারে নতুনভাবে প্রায় ১১ হাজার ৯৫৬ জন নারী আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৬ হাজার ৫৮২ জন মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে এ রোগে পৃথিবীতে প্রতি দুই মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে। তবে এ রোগ প্রতিরোধে দেশে বর্তমানে টিকাদান কর্মসূচি এবং জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে আছে- ভায়া, প্যাপস এবং এইচপিবি ডিএনএ। সরকারিভাবে জেলা-উপজেলায় প্রায় ৪০০টি কেন্দ্রে এই স্ক্রিনিং চালু আছে। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এইচপিভি ভাইরাসসংক্রমণে জরায়ুমুখের ক্যানসারের-পূর্ববর্তী অবস্থা দেখা হয়। এই ক্যানসার-পূর্ববর্তী অবস্থায় শনাক্ত হলে শতভাগ নিরাময়যোগ্য।


