ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণকে নিরবচ্ছিন্ন হাঁটার সুযোগ করে দিতে গত দুই মাস ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। কিন্তু দখলদাররা এসব অভিযানকে বরাবরের মতোই থোরাই কেয়ার করছেন! কোনো কিছুরই যেন তোয়াক্কা করেন না তারা। এবার চসিকের উচ্ছেদ অভিযানে রীতিমতো চোর-পুলিশ খেলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুর ২টা থেকে চট্টগ্রামের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে চসিক; যা বিকেল ৫টায় শেষ হয় নগরীর জহুর হকার্স মার্কেটে গিয়ে। অভিযান সমন্বয় করেছেন চসিক মেয়য়ের একান্ত সচিব আবুল হাশেম। এ ছাড়া পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে অংশ নেন। সহযোগিতা করেন ২৪০ জন পুলিশ সদস্য ও চসিকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা।
কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানের ফলাফল শূন্য। উচ্ছেদ দূরে থাক, উল্টো চোর-পুলিশ খেলা দিয়ে শেষ হয় অভিযান। অভিযানিক দল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে না যেতেই আবারও আগের জায়গায় বসে পড়েন হকাররা।
গতকাল বুধবার বিকেলে সরেজমিনে নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অভিযানের খবরে আগেভাগেই অস্থায়ী দোকানপাট গোছাতে থাকে জহুর হকার্স মার্কেট ও মিউনিসিপ্যাল স্কুলের সামনের হকাররা। ম্যাজিস্ট্রেটরা এসে দেখতে পান ফুটপাত একদম খালি। একটু আগেও যে জায়গাটি দোকান আর হকারে ঠাসা ছিল, এখন সেখানে শুনশান নীরবতা। কোনো ঝামেলা নেই, নেই কোলাহল। কিন্তু এ চিত্র বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অভিযান শেষ হওয়ার পরই এর স্থায়ীত্ব শেষ হয়। এরপর আবার হু হু করে সব হকাররা পঙ্গপালের মতো খাট, পালং, বাঁশ, লাঠি নিয়ে দোকান বসিয়ে দেয় ফুটপাতে।
এ বিষয়ে চসিক মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম খবরের কাগজকে বলেন, ‘তারাতো আমরা চলে আসলে বসবেই। এটাই তাদের কাজ। আমরা ঈদের পরে হলিডে মার্কেট করব। তখন এটার সুফল মিলবে বলে আশা করি।’
এর আগে গত ফেব্রয়ারিতে একই এলাকায় কয়েক দফায় বড় ধরনের অভিযান চালায় চসিক। শেষবার ১২ ফেব্রুয়ারি চসিকের অভিযানে সড়ক অবরোধ ও হামলার ঘটনা ঘটে। হকার-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ম্যাজিস্ট্রেট, চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৌড়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী শৌচাগারে আশ্রয় নেন। পরে ওই ঘটনায় মামলা হলেও সেটি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। সেসময় মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দেন হকাররা। কয়েক দফায় রাস্তা অবরোধ করে হকাররা। পক্ষে-বিপক্ষে হয় আলোচনা-সমালোচনা। এত কিছুর পরও ফুটপাত দখলমুক্ত হয়নি। অস্থায়ী হকারদের সরাতেও ব্যর্থ সিটি করপোরেশন।