চট্টগ্রামের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (১১ মে) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ সমিতির লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৌদ্ধ সমিতির লোকদের বিহার থেকে বের করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভিক্ষুদের অভিযোগ, বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নেতারা এসে বিহারের আসন থেকে বৌদ্ধ মূর্তি সরিয়ে সেখানেই বসে যান এবং বিহারে তালা ঝুলিয়ে দেন। বেলা আড়াইটার পর ভিক্ষু নেতারা সেখানে জড়ো হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিহারকে নিজেদের দখলে নিতে সমিতির নেতারা এমন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে সন্ধ্যার দিকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে বিহারের সামনে মানববন্ধন করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, দুই মাস আগে বিহারের কিছু সম্পত্তি নিয়ে বৌদ্ধ সমিতির নেতাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। এ নিয়ে ৮ মার্চ মারামারির পর বিহার থেকে বৌদ্ধ সমিতির নেতাদের বের করে দেওয়া হয়। আজ (শনিবার) তারা বিহারের দখল নিতে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
নন্দনকানন বিহারের উপাধ্যক্ষ জিনুবোধি ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধ বিহার কারও সম্পত্তি নয়। কোনো সংগঠন করার জায়গা নয়। কিন্তু একটি সংগঠন ভিক্ষুদের ওপর হামলা করে বিহার দখলে নিতে চায়। অন্যদিকে বৌদ্ধ সমিতির নেতাদের দাবি-কয়েকজন ভিক্ষুর নেতৃত্বে কিছু কুচক্রী বিহার কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি ওবায়দুল হক জানান, বিহারের দখল ধরে রাখা নিয়ে দুই মাস ধরে ঝামেলা চলছিল। দুপুর থেকে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। বিকেলে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ এক পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।