চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (১৫ মে) নগরীর চকবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ, সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান ও রানা দেবনাথ।
জানা গেছে, নোংরা পরিবেশ ও ফ্রিজে তেলাপোকা ও বাসি মাংস পাওয়ায় চকবাজার এলাকার ‘দাবা’ রেস্টুরেন্টকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে একই এলাকার রেস্টুরেন্টু ‘কফি ম্যাক্স’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে।
তা ছাড়া ওই রেস্টুরেন্ট (কফি ম্যাক্স) কর্মচারীকে আটক করে চকবাজার থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মো. রিমন (১৯) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের নুর পাটওয়ারীর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিমন ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। নুর পাটওয়ারী তাদের প্রতিবেশী।
স্থানীয়রা জানান, রিমনের মা ফাতেমা বেগম প্রায় দেড় বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর রিমন বখাটেদের সঙ্গে মিশে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। মা তাকে শাসন করলে তিনি উল্টো গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রিমনের খোঁজ নিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, রিমন স্থানীয় বাজারে গেছে। এরপর আর কোনো খবর পাইনি।’
রিমনের চাচা এমরান হোসেন লিটন জানান, রবিবার সকালে প্রতিবেশী নুর পাটওয়ারীর ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে বসতঘরের জানালা খোলেন। ভেতরে রিমনকে আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘রিমনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উখিয়া উপজেলার ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মোহাম্মদ শফিক (৬) একই এলাকার বাসিন্দা মুহিব উল্লাহর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জলাধারে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি নালা ও খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রবিবার বিকেলে ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের একটি জলাধারের পাশে মোহাম্মদ শফিকসহ কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ঢলের পানিতে শফিক ভেসে যায়। পরে অন্য শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক আরও জানান, খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করা হয়।
হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন চামুরকান্দি এলাকা থেকে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে পেটব্যথার চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ব্যথার ইনজেকশন হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বললে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লাকে ফোন করেন। পরে ইউসুফ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতা-কর্মী হাসপাতালে এসে চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের মারধর করেন। এ সময় ওই চিকিৎসক দৌড়ে হলরুমে গিয়ে আশ্রয় নিলে তাকে দ্বিতীয় দফায় ধরে এনে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী, একই পদে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, ঘটনাস্থলে এলে তাকেসহ আব্দুল্লাহ আল কামালকে আটকে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে যান। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে কোনো সমস্যা হতেই পারে। তবে এভাবে মব সৃষ্টি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) ভোর রাতে নাচোল পৌর এলাকার স্কুলপাড়ায় ব্যবসায়ী প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে এই চুরি হয়।
গভীর রাতে মা ও ছেলের ঘরের দরজার ছিটকিনি বাইরে থেকে আটকে রেখে পাশের ঘর থেকে চোর স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নাচোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ওই বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের মেজো ছেলের স্ত্রী কলেজশিক্ষিকা মোসা. রোজি শাহানাজ তুষ্টি (৪৮) ও তার ছেলে মো. তাবিব হাসান (১৪) রাতের খাওয়া শেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখে আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে রোজি শাহানাজ তুষ্টি দেখতে পান তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকানো। এ সময় তিনি পাশের কক্ষে থাকা তার ছেলেকে ডাকলে ছেলেও জানায় তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ছেলে তাবিব হাসান সিঁড়ি ঘরের দরজা দিয়ে বের হয়ে তার মায়ের ঘরের দরজার ছিটকিনি খুলে দেয়। তার দাদি খাইরুন নেসার ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান স্টিলের আলমারি, ওয়ার্ডরোব ও ড্রয়ার খোলা এবং আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চোর আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ভেতরে থাকা আনুমানিক সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণের গহনা (যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৩ লাখ টাকা) এবং নগদ ২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। খাইরুন নেসা কয়েক দিন আগে ঢাকায় ছেলের বাসায় আসেন। তারপর থেকে তার ঘর বন্ধ ছিল।
চোর পাশের আরেকটি বাড়িতেও হানা দেয় বলে জানা গেছে। তবে ওই বাড়ি থেকে কী নিয়ে গেছে তা জানা যায়নি।
চুরির বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ খবরের কাগজকে জানান, চুরির ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১নং ব্রীজে এ ঘটনা ঘটে।
মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চন্দ্রা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বরিশাল থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের ওপর উঠলে অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হন।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে।