মায়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুট দীর্ঘ ৯ দিন বন্ধ থাকার পর খাদ্যপণ্য নিয়ে দ্বীপে পৌঁছাল জাহাজ এমবি বার আউলিয়া।
শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেড়শ টন খাদ্যপণ্য ও টেকনাফসহ বিভিন্ন জায়গায় এসে আটকেপড়াদের নিয়ে জাহাজটি সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়।
এই নৌরুট বন্ধ থাকায় দ্বীপ ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দার মাঝে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল।
শুক্রবার সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএর ঘাট থেকে বার আউলিয়া জাহাজে মালামাল লোড করা হয়। পরে দুপুর ২টায় জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ৭৫ টন খাদ্যপণ্য ভিজিইডি ও ভিজিএফ সহায়তাসহ ব্যবসায়ীদের মালামালসহ প্রায় দেড়শ টন খাদ্যপণ্য পাঠানো হচ্ছে। কোরবানি ঈদের জন্য ৫টি গরু এবং ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাসামগ্রী ও তিনজন মিডওয়াইফ সেন্টমার্টিনে গেছেন। আশা করছি এই পণ্য এক মাস পর্যন্ত দ্বীপের মানুষের চাহিদা মেটাবে।
চট্টগ্রামে সিটি কলেজের ছাত্র সাইফুর রহমান বলেন, গত কোরবানির ঈদের পর এবার বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। সেন্টমার্টিন যাওয়ার একমাত্র পথ নৌরুটে মায়ানমারের গোলাগুলি কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবনে খুবই প্রভাব ফেলছে। সেন্টমার্টিনের মানুষদের খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের জন্য টেকনাফের ওপর নির্ভর করতে হয়।
জাহাজে থাকা দ্বীপের বাসিন্দার সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রায় ১০ ঘণ্টা পড়া কক্সবাজার থেকে জিনিসপত্র নিয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সময় জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছায়। বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কারণে জাহাজ পৌঁছতে দেরি হয়েছে। সুস্থভাবে পৌঁছাতে পেরে আনন্দ লাগছে।
গত ১৩ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে আটকেপড়া যাত্রী নিয়ে চারটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরের বিকল্প চ্যানেলে টেকনাফের সাবরাং মুন্ডাল ডেইল ঘাটে আসে। একইভাবে টেকনাফে আটকেপড়া বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে রওনা করে রাত ৮টায় পৌঁছায়।
দুর্যোগে দুর্দিনে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১০ হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কর্ণফুলী জাহাজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, দ্বীপের মানুষের পাশে থাকতে পেরে জন্যে নিজেরাও গর্বিত।
শাহীন/অমিয়/