চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি মিলছে নেদারল্যান্ডস ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ। ভারতীয় পেঁয়াজের তুলনায় কেজিতে ২৫ টাকা কমে বিক্রি হওয়ায় এই পেঁয়াজের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারটিতে নেদারল্যান্ডসের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬৫ ও মিসরীয় পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় আমদানিকারকরা বিকল্প বাজার নেদারল্যান্ডস ও মিসরের দিকে আকৃষ্ট হন। ফলে খাতুনগঞ্জে নেদারল্যান্ডস ও মিসরীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এখানে ভারত, নেদারল্যান্ডস ও মিসরীয় পেঁয়াজ রয়েছে। দামে কম পাওয়ায় হোটেল মালিকরা নেদারল্যান্ডসের পেঁয়াজ বেশি কিনছেন। সাধারণ ক্রেতারা ভারত ও দেশি পেঁয়াজ কিনতে বেশি আগ্রহী থাকেন। তবে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ একেবারে কম থাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় অন্য দেশ থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ কিনছেন সাধারণ ক্রেতারা। পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। দেশে উৎপাদিত এসব পেঁয়াজ বাজারে আসবে ডিসেম্বরে।’
নগরের নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. এনামুল হক বলেন, ‘স্বাদ ও ঝাঁজের কারণে আমরা দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩০ ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। আর নেদারল্যান্ডসের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। এসব পেঁয়াজের আকার খুব বড়, স্বাদও তুলনামূলক কম। কিন্তু বর্তমানে ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমদানিকারকরা যেখানে কম দামে পাবেন, সেখান থেকে পণ্য আমদানি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ এলে সরবরাহ বাড়বে, দাম কমবে। জনগণ একটু স্বস্তি পাক সেটাই আমরা চাই। পাশাপাশি বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি ও ভোক্তা অধিকারের অভিযান অব্যাহত আছে। সম্প্রতি তরুণরাও ন্যায্যমূল্যে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কমে আসবে।’