দেশব্যাপী হাত ঘুরে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার সিন্ডিকেট সরকার ভাঙ্গতে না পারলেও ফরিদপুরের তরুণরা কৃষকের থেকে পণ্য এনে তুলে দিচ্ছেন ভোক্তার হাতে। আর ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের ফলে অনেক সবজি মিলছে অর্ধেক দামে।
প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুই দিন, শনি ও বুধবার শহরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন স্প্রিং হিল হাসপাতালের পাশে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত পাওয়া যাবে সব ধরনের কাঁচা বাজার।
উদ্যোক্তারা জানান, তাদের সংগঠন ‘কনজিউমারস ভয়েস বাংলাদেশ’এর উদ্যোগে পরবর্তীতে প্রতিদিনই চালু রাখার চেষ্টা করবে।
কী করে এত কম দামে তারা সবজি বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান ও শরিফ খান জানান, তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা একটি পিকআপভ্যানে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকের সবজি সংগ্রহ করেন। সরাসরি কৃষকের থেকে আনার ফলে তারা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন।
ফরিদপুর শহরের সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, যেখানে বাজার থেকে আমরা এক হাজার টাকা দিয়ে পাঁচ-ছয়টা পণ্য কিনতে পারি, সেখানে জনতার বাজার থেকে ১০টি কিনতে পারছি। আমরা যারা হোস্টেল বা মেসে থাকি তাদের জন্য এটা একটা বিরাট সাশ্রয়।
ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ হীরক বলেন, জনতার বাজার যদি ৮০ টাকার বেগুন ৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারে তাহলে বুঝতে হবে বাজারে এখনো মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যায়নি। এদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি।
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যত বেশি নেওয়া হবে ততই মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ বাড়বে। আর চাপ না দিলে এই সিন্ডিকেট কখনোই ভাঙ্গা যাবে না।
সঞ্জিব দাস/মেহেদী/অমিয়/