ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না? বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প বিদেশি বিনিয়োগে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি চা-শিল্পের সংকট ও টেকসই উন্নয়নের পথ নাগেশ্বরীতে এইচএসসিতে ধার করা ট্যাগ অফিসারে পরীক্ষা! হাসপাতালের নিকৃষ্ট সিন্ডিকেট নির্মূল করুন ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না?

ডেভিল হান্ট ফরিদগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৫৫ পিএম
ফরিদগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল গ্রেপ্তার
রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কাউসারুল আলম কামরুল

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর অংশ হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কাউসারুল আলম কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম।

কামরুল ওই ইউনিয়নের পশ্চিম রূপসা গ্রামের মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও রূপসা বাজারে চেয়ারম্যান কামরুলের নিজস্ব কার্যালয় ভাংচুর করা হয়। এরপর কামরুল বেশ কয়েকদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, চেয়ারম্যান কাউসারুল আলম কামরুলের বিরুদ্ধে নাশকতার ঘটনায় মামলা রয়েছে। তাকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হবে।

ফয়েজ আহমেদ/এমএ/

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ২২ ফুট। এতে কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী ৬ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এ দুর্যোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

রাঙামাটিতে অতিবর্ষণে পাহাড়ধস ও বন্যায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার ৯ উপজেলা ও ২ পৌর এলাকায় ৭ হাজার ৬শ ৪৬ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। আর ৭ উপজেলায় ১৩৫টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় অনেকে এরমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়েছেন। এরপরও সোমবার পর্যন্ত জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫৮৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। 

দুর্যোগে জেলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সেতু ধসে তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক। সড়ক ধসে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে পাঁচদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়ায় বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও লংগূু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১০৯ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) ধারণক্ষম কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রবিবার ১৩ জুলাই দুপুর দুইটা পর্যন্ত ছিল ১০০ দশমিক ৮.০ ফুট। অবশ্য পানি বাড়ায় দেশের একমাত্র কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬ মেগাওয়াট। যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। 

দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির পরিমাণ, বণ্টন, আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত মানুষের সংখ্যা, সড়ক, সেতু কালভার্ট, খেত-ফসলসহ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রকাশ নিয়ে এই প্রথম বারের মতো জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লুকোচুরি, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও স্থানীয় প্রশাসন থেকে যথেষ্ট ত্রাণ সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে। 

বাঘাইছড়ি প্রথম নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করে। সেখানে ৭ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পুকুর, মাছের ঘের ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির। ঘরবাড়ি, সহায় সম্পদ, গরু-ছাগল হাঁসমুরগি রেখে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। আবার আশ্রয়কেন্দ্রে এসেও নিয়মিত খাবার, শিশুখাদ্য, ঔষধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

গণমাধ্যমে প্রচারের পর বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ১১শ জন আশ্রয় নেওয়ার তথ্য সংশোধন করে মাত্র ৮২ জনে নামিয়ে আনে জেলা প্রশাসন। মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে তিনদিনে একবেলা খাবার দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আবার ৯ জুলাই ১২৯ পরিবার পানিবন্দি থাকার কথা বললেও এর চারদিনের মাথায় আজ ১৩ জুলাই বলা হয়েছে-৭ হাজার ৬শ ৪৬ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। 

৮ জুলাই রাতে আকস্মিক বন্যায় বিলাইছড়ির ফারুয়ায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও চারদিন পর ১২ জুলাই ২০০ জনকে দেওয়া হয় ১০ কেজি করে সরকারি চাল। যেখানে ফারুয়া বাজারের দেড় শতাধিক দোকান ডুবে যায়। সর্বশেষ রবিবার রাতে শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে বয়স্কদের খাবার দেওয়া হলেও বাচ্চাদের না দেওয়ায় খাবার বর্জন করেন দুর্গতরা। এমনকি এই দুর্যোগে সরকারি খাদ্যশস্য ও অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন সহায়তার পরিমাণও প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের এমন আচরণে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রিফাত/

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ
সিস্টেম গ্রুপ চেয়ারম্যান ফজলুল আজিম সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দেন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১১ জন গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করেছে সিস্টেম গ্রুপ।

সোমবার (১৩) জুলাই গ্রুপটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, ডা:আবুল কাশেম ফাউন্ডেশন-এর প্রধান উপদেষ্টা আবু জাফর কাদেরী, সিস্টেম গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিছবাহ উদদীন কাদেরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন, বি এন পি নেতা সৈয়দ নুর ও জাফর মেম্বার।

এ সময় মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, গত আট দিনের টানা অতি বৃষ্টির কারণে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরে খাবার নাই। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ, অনেকে হারিয়েছেন সহায় সম্বল। এমতাবস্থায় সিস্টেম গ্রুপ সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি এ মুহূর্তে দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে আর্ত মানবতার সেবায় সবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মাননীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাতকানিয়া লোহাগাড়ার মানুষকে সুখে শান্তিতে রাখার। সাতকানিয়া এবং লোহাগাড়ায় মাস্টার প্ল্যান করে আগামীতে যেন আর মানুষকে বন্যার পানিতে ডুবতে না হয় সে ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

নাঈম/

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

​উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরে সন্ধ্যায় ৭টায় তা ৭ সে.মি উপরে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

​আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।’

 হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার রহমত আলী বলেন, ‘বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।’

তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ টেকসই সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে নামমাত্র মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।’

বকুল/রিফাত/

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার একটি ফিশিং ট্রলারডুবে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলারটিতে থাকা অপর সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

নিখোঁজরা হলেন, কুতুবদিয়ার দক্ষিণ অমজাখালী এলাকার শামসুল আলমের ছেলে নাছির উদ্দীন (২০), পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের কাগ পাড়ার নাছির উদ্দীন (২১), আবুল কাশেমের ছেলে মো. করিম (২১), আব্দুল মাবুদের ছেলে আইয়ুব মনির (২০), কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল হায়দার পাড়ার কামাল (৪৮)।

স্থানীয়দের বরাতে কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ বলেন, স্থানীয় নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ১২ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে মাছ ধরতে সাগরে যায়। সোমবার ভোরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী নোমান উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জেনেছি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের সন্ধানে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

পরিদর্শক ফারুক আহমেদ জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ট্রলারের মালিকের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

তারেকুর রহমান/রিফাত/

সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় ৫ দিন পর বন্যার এই পানি কমতে শুরু করেছে, তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী এ বন্যায় সাতকানিয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলাজুড়ে ভয়াবহ বন্যার ফলে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার সড়ক, কালভার্ট, স্লুইস গেট ও বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামোর পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি পরিষ্কারের পাশাপাশি জীবিকা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার উত্তর রামপুর, হাঙর মুখ, গাটিয়াডেঙ্গা ও সামিয়ার পাড়ায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক ভেঙে ডলু নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে ওই সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও নলুয়া-চৌধুরীহাট সড়কের একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে সাঙ্গু নদীর বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ওই অংশের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি, সড়ক ও মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছদাহা-দস্তিদারহাট সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র চোখে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর আউশ, ৭৪০ হেক্টর শাকসবজি, ৮ হেক্টর পান, ১৬ হেক্টর পেঁপে বাগান এবং ৮০ হেক্টর জমির অন্যান্য মিশ্র ফসল দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে ২০ হাজারের অধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান সংলগ্ন মাহালিয়া বিলের সবজি চাষি সিরাজ মিয়া বলেন, আমি প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের শাকসবজি চাষাবাদ করে থাকি। চলতি মৌসুমেও প্রায় দেড়শ শতক জমিতে করলা, লাউ, শসা, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও বেগুনের আবাদ করেছি। কিন্তু বন্যার পানিতে কিছুই অবশিষ্ট রইল না, সব ফসল তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসল ও শাকসবজি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা বা প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২৬টি সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ৪টি কালভার্ট ও একটি স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। এর ফলে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রামপুর এলাকার বাসিন্দা জিসানুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার বায়তুশ শরফ অংশ দিয়ে ডলু নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় গোলারঘাট সড়কের বিশাল একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এখনও ওই অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির স্রোতে নাছির মৌলভী নামে এক অটোরিকশা চালকের বাড়ি ভেঙে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কর্মকর্তা সবুজ কুমার দে বলেন, বিভিন্ন এলাকায় এখনো বন্যার পানি নামেনি। যেসব এলাকায় পানি নেমে গেছে সেখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকার ৩ হাজার ৫৫০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ৫৭৫ হেক্টর পুকুর বা দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুকুর বা দিঘির মধ্যে ৮০৬ মেট্রিক টন পিন ফিস ও ১০ লাখ পোনা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে অবকাঠামো, মাছ ও পোনাসহ আনুমানিক ৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মৎস্য চাষি মো. মহসিন বলেন, আমার পুকুর ও প্রজেক্টের অধিকাংশ মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়াও একটি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার প্রবল স্রোতে তলিয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি সহযোগিতা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানবীর আহসান বলেন, এটি মূলত প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তখনই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারি সহায়তার জন্য সুপারিশ করা হবে।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম