বরিশালের উজিরপুরে বিএনপির দলীয় নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার টানিয়ে প্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এর আগে ২০১৮ সালে শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এনায়েত হোসেন খান আওয়ামী লীগের ব্যানার টানিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি দখল করেছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তা মুক্ত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান উজিরপুরের শিকারপুর বন্দরের চান্দিনা ভিটার ৪ শতাংশ জমি বাৎসরিক ইজারায় নিয়ে ১৯৫০ সাল থেকে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি মারা গেলে তার দুই ছেলে দোকানটির দায়িত্ব নেন। ২০১৮ সালে তাদের দোকান দখলে নিয়ে শিকারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয় করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের সন্তান উজিরপুর উপজেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাসুম বলেন, ‘৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমি আমার দোকান বুঝে নিই। এরপর দুই যুবদল নেতা আমার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রফাদফা করি। এর মধ্যে যুবদল নেতা জালিস মাহমুদ মৃধা দোকান ঘরটি ভাড়ায় নেওয়ার কথা বলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির গোডাউন হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যুবদল নেতাকে গোডাউন ঘর অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে অনুরোধ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দোকান ঘর তালাবদ্ধ করে রাখেন।’
তিনি বলেন, ‘জালিস মাহমুদ পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপজেলার আহ্বায়ক এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর ছবিসংবলিত শিকারপুর ইউনিয়ন বিএনপির স্থায়ী কার্যালয়ের একটি ব্যানার টানিয়ে দোকান দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি উপজেলার আহ্বায়ক এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুকে জানালে তিনি সাইনবোর্ড নামানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই ছবি না নামিয়ে সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসংবলিত আরেকটি সাইনবোর্ড সেখানে টানানো হয়।’
মুক্তিযোদ্ধার দোকানঘরে সাইনবোর্ড টানানোর বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জালিস মৃধা ও রুহুল কুদ্দুস হাওলাদার জানান, উজিরপুর পৌর এবং শিকারপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু ব্যক্তি গিয়ে ওই ব্যানার টানিয়েছে। এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সদস্যসচিব হুমায়ুন খান বলেন, ‘ওই দোকানঘর মাসুমের। এটি আওয়ামী লীগ দখল করেছিল। এখন কয়েকজন বিএনপি নেতা সাইনবোর্ড দিয়েছেন বলে শুনেছি। উজিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু দেশের বাইরে। তিনি ফিরে আসার পর নিজে উপস্থিত হয়ে সাইনবোর্ড খুলে দেবেন। মাসুমের দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘মাহফুজুর রহমান মাসুম একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’