দিনাজপুর শহর থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত ১০৬ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রবিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ওই সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে। এর মধ্যে ফুলবাড়ী থেকে বিরামপুর রাস্তা পরিদর্শনের সময় অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। গত ২৫ মার্চ খবরের কাগজের ‘রূপসী বাংলা’ পাতায় ‘৮৮২ কোটি টাকার সড়কে ঢেউ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মূলত ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর দুদক এ অভিযান চালায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির উপপরিচালক আতাউর রহমান বলেন, ‘খবরের কাগজের প্রতিবেদনটি আমাদের দৃষ্টিগোচর আমরা এই পথের কাজ পরিদর্শনে আসি। এই রাস্তার কাজ নিয়ে খবরের কাগজের প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সরেজমিনে এসে দেখে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।’
তিনি বলেন, ‘৮৮২ কোটি টাকার এই সড়ক সম্প্রসারণকাজে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে।’
অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন, সহকারী পরিচালক খাইরুল বাসার, সহকারী পরিদর্শক শাজাহান আলী প্রমুখ।
এদিকে সড়কের কাজ পরিদর্শনে এসে দুদক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি সড়ক বিভাগের নজরে আনা হয়। সংস্থাটির দিনাজপুর ও ফুলবাড়ী উপবিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘দুদকের কর্মকর্তারা আমাদের কাছে নির্ধারিত কাগজপত্র চেয়েছিল। আমরা তা সরবরাহ করেছি। এখন তারা বিষয়টি দেখছেন।’
রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরও ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর আগে কাজটি হয়েছে। সেই সময়ের কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন। আমি এখানে নতুন এসেছি। বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনি আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
যদিও বিস্তারিত জানতে দিনাজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক এই সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে দিনাজপুর শহর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮৮২ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। ৯টি গুচ্ছের মাধ্যমে চলা সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পর থেকে রাস্তার অনেক অংশ দেবে যেতে থাকে। দৃশ্যমান হয় ঢেউ খেলানো রাস্তা। দিন দিন তা চলাচলের অনুপযোগী হতে থাকে। রাস্তার কাজের তদারকির দায়িত্ব ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের।
সুলতান মাহমুদ/এমএ/