পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মায় বালুর খাজনা আদায় ও ঘাটের দখল নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ১০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর দক্ষিণে ঈশ্বরদী-লালপুর সীমানায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চর এলাকায় বালু ব্যবসার দখলদারিত্ব ও বালুর খাজনা আদায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মো. কাকন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী টনি বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার পদ্মার চরে উভয়পক্ষের মহড়া হয়। এরপর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পদ্মার চরের ঈশ্বরদীর সীমানায় কয়েকটি ট্রলারে করে কাকন ইঞ্জিনিয়ারের লোকজন এসে বালুমহাল দখল নিতে চাইলে টনি বিশ্বাসের লোকজন সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রতিরোধের মুখে এক পর্যায়ে কাকনের লোকজন সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে চলে যান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পদ্মার চরে আবারও দুপক্ষ অবস্থান নেয়। এ সময় আকস্মিকভাবে কাকনের লোকজন টনি বিশ্বাসের লোকজনের ওপর হামলা শুরু করলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এ বিষয়ে সুলতান আলী বিশ্বাস টনি জানান, তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়ে গত ১ মে থেকে নদীচর থেকে বালুর খাজনা আদায় করছেন। এরই মধ্যে বালুমহল দখল ও খাজনা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে কাকন ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্নভাবে হুমকি ও বাধা দেওয়া শুরু করেন। গতকাল সকালে ৩-৪টি ট্রলারে করে কাকনের লোকজন এসে তার লোকজনের ওপর হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন ১০ জন। গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ সেলিম হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে কাকনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি নাটোর জেলা থেকে কাকন উপজেলার সাঁড়ার নিকটবর্তী লালপুর সীমানায় পদ্মার চর এলাকায় বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। সেই ইজারার দখল নিতে এলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বালুর ইজারা ও খাজনা আদায়ের দখলদারিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’