ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে বেঁধে মারধর ও স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
গত রবিবার (২৯ জুন) রাতের এ ঘটনায় সোমবার (৩০ জুন) তজুমদ্দিন থানায় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ উদ্দিনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে– তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাসেল এবং ফরিদ উদ্দিনের সহযোগী আলাউদ্দিন, যিনি নিজেকে স্থানীয় যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, তবে কোনো পদ নেই।
মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছে। এ নিয়ে কথা বলার জন্য শনিবার (২৮ জুন) রাতে ফোন করে তাকে তজুমদ্দিন বাজার এলাকায় যেতে বলেন দ্বিতীয় স্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর শ্রমিক দলের নেতা ফরিদ উদ্দিন, তার সহযোগী আলাউদ্দিন, ছাত্রদল নেতা রাসেলসহ ৫ থেকে ৭ জন তাকে মারধর করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তাকে রাতভর নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পরদিন রবিবার বেলা ১১টায় ওই ব্যক্তির প্রথম স্ত্রী সেখানে গিয়ে আসামিদের ১০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতে খুশি হননি ফরিদ ও তার লোকজন। ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে নির্যাতন করতে থাকেন তারা।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, 'দুপুর ১২টায় তার স্বামীকে জোরপূর্বক বাসার বাইরে নিয়ে যায় আসামিদের কয়েকজন। এ সময় ওই বাসার একটি কক্ষে ফরিদ ও আলাউদ্দিন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। তখন ঘরের বাইরে পাহারায় ছিলেন মারধরের শিকার ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী। ধর্ষণের শিকার নারী আসামিদের ‘ভাই’ ডেকেও রক্ষা পাননি। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে বিকেলে মুক্তি মেলে স্বামী-স্ত্রীর। বাড়ি ফিরে সন্ধ্যায় দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ধর্ষণের শিকার নারী। তবে স্বজনদের কারণে তিনি তা করতে পারেননি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ওই রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাব্বত খান জানান, এজাহার অনুযায়ী, ফরিদ ও আলাউদ্দিন ধর্ষণ করেন এবং একজন তাদের সহযোগিতা করেন। মারধরের ঘটনায় ৬-৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে ভোলা সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে।
ইমতিয়াজুর/মেহেদী/