অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও গুদামে হাঁটুপানি জমে থাকায় পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এতে কয়েকটি প্রবেশগেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে বেনাপোল কাস্টম হাউসে হাঁটুপানি জমেছে। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শুল্কায়ন কার্যক্রম। হাঁটুসমান পানি ডিঙ্গিয়ে কাস্টমস অফিসাররা পণ্য পরীক্ষণে যেতে পারছেন না।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে কাস্টম হাউসের ভেতরে আগুন ধরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা আতঙ্কে আছেন। কাস্টমসের সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শুল্কায়ন কার্যক্রম।
এই বন্দরে বছরে ২২ থেকে ২৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়। এসব পণ্য সংরক্ষণে রয়েছে ৩৩টি শেড, তিনটি ওপেন ইয়ার্ড ও একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড। কিন্তু অধিকাংশ অবকাঠামোই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। অথচ এই বন্দর থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়।
একটু ভারী বৃষ্টিপাত হলেই বন্দর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের চলাফেরাও দুরূহ হয়ে পড়ে।
প্রতিদিন হাঁটুপানির মধ্য দিয়ে কাজ করতে গিয়ে চুলকানি ও নানা অসুস্থতায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বন্দর সড়কের উচ্চতার চেয়ে গুদামগুলো নিচু হওয়ায় পানির স্বাভাবিক নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। ফলে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং চলাফেরায় ভোগান্তি বাড়ছে। বন্দরে আগে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কেমিক্যালসামগ্রী এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যা বৃষ্টির পানিতে মিশে শ্রমিকরা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ কালভার্ট না রেখে মাটি ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে কারণে বৃষ্টির পানিতে বন্দরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।’
নজরুল/পপি/