ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু বন্ধু দেশকে ছাড়, হরমুজে নতুন ফি আরোপের ঘোষণা ইরানের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ফুটবল: লক্ষ্মীপুরে চ্যাম্পিয়ন ‘জাফরনগর স্মার্ট ভিলেজ’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে স্বামীর দেওয়া আগুনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭১ জন ২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি বন্ধ করুন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে কে এই মুসলিম রেফারি? বিশ্বকাপ কাঁপানো ভোজিনহাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি! নিরাপত্তা যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না সরায়: প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি, আটক সোহানী শিফা আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে বাংলা একাডেমি ও ঢাবি হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ফিরছে ‘বাংলার রসনা বিলাস ২.০’ ৩৬০ জোড়াকে সচল রাখার ইবাদত গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০ ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় দেখছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু ব্রাজিলই ফেভারিট: নরওয়ে কোচ প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী তীজন বাঈ আর নেই নরসিংদীতে ইয়াবাসহ যুবদলের সাবেক সভাপতির ছেলে আটক

আজ থেকে সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ বন্ধ, হতাশ ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
আজ থেকে সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ বন্ধ, হতাশ ব্যবসায়ীরা
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের পদচারণ। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শেষ হলো পর্যটকদের দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি।

সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটন মৌসুম চললেও এবার পরিবেশগত সুরক্ষার কথা বিবেচনায় এনে সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এই সময় শেষে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে দ্বীপটিতে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের নির্ধারিত সময় ৩১ জানুয়ারি শেষ। এ সময়ের পর দ্বীপগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। পরবর্তী সময়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাস সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপটিতে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেন্ট মার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এদিকে হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন দ্বীপটির ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনে পর্যটন বন্ধ হলে দ্বীপের হাজারও মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে পড়বেন। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাই।’

সেন্ট মার্টিন মারমেইড রিসোর্টের মালিক তৈয়ব উল্লাহ বলেন, সেন্ট মার্টিনে থাকা শেষ পর্যটকরাও দ্বীপ ছেড়ে চলে গেছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র দুই মাস পর্যটক আসা-যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তাতে স্থানীয় আবাসিক রিসোর্ট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিতভাবে উপকৃত হননি। পর্যটকরা মূলত জাহাজে করে এসে ঢাকাভিত্তিক বড় রিসোর্টগুলোতেই অবস্থান করেছেন। এতে লাভবান হয়েছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও বাইরের মালিকানাধীন রিসোর্টগুলো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিতই থেকে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের কাছে অন্তত রমজান পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে পর্যটন সেবা চালু রাখার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হয়নি।

তৈয়ব উল্লাহ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, যাতে দ্বীপবাসী টিকে থাকতে পারেন। কারণ দ্বীপের মানুষ মাত্র দুই মাসের আয়ের ওপর নির্ভর করে বাকি ১০ মাস চলতে পারবেন না। অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হলে স্থানীয়দের কিছুটা হলেও উপকার হতো।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। হঠাৎ দীর্ঘ সময় ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো গেলে মানুষের টিকে থাকা সহজ হতো।

ব্যাটারিচালিত টমটমচালক স্থানীয় পারভেজ হোসেন বলেন, ‘পর্যটক না থাকলে টমটমের চাকাও ঘুরবে না। অনাহারে থাকতে হবে। ঋণ শোধ করতে পারব না বলে না বলে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম।’

এলাকাবাসী জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজারও মানুষ জড়িত। মানবিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিধিনিষেধ অনুযায়ী, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত আকারে পর্যটন চালু ছিল। নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পান। এতদিন কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছিল। গত ১ ডিসেম্বর নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে এ রুটে পর্যটক পরিবহন শুরু হয়। তবে নাফ নদীতে পলি জমে যাওয়া এবং মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে টেকনাফ রুট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মো. রিমন (১৯) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের নুর পাটওয়ারীর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রিমন ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। নুর পাটওয়ারী তাদের প্রতিবেশী।

স্থানীয়রা জানান, রিমনের মা ফাতেমা বেগম প্রায় দেড় বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর রিমন বখাটেদের সঙ্গে মিশে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। মা তাকে শাসন করলে তিনি উল্টো গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রিমনের খোঁজ নিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, রিমন স্থানীয় বাজারে গেছে। এরপর আর কোনো খবর পাইনি।’

রিমনের চাচা এমরান হোসেন লিটন জানান, রবিবার সকালে প্রতিবেশী নুর পাটওয়ারীর ঘর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে বসতঘরের জানালা খোলেন। ভেতরে রিমনকে আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘রিমনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ফয়েজ/রিফাত/

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উখিয়া উপজেলার ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোহাম্মদ শফিক (৬) একই এলাকার বাসিন্দা মুহিব উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জলাধারে পানি জমে যাওয়ার পাশাপাশি নালা ও খাল দিয়ে অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, রবিবার বিকেলে ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের একটি জলাধারের পাশে মোহাম্মদ শফিকসহ কয়েকজন শিশু খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ঢলের পানিতে শফিক ভেসে যায়। পরে অন্য শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক আরও জানান, খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তরিকুল/রিফাত/

আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকেলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করা হয়।

হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন চামুরকান্দি এলাকা থেকে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে পেটব্যথার চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। এ সময় দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ব্যথার ইনজেকশন হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় রোগীর স্বামী বিল্লাল হোসেনকে বাইরে থেকে কিনে আনতে বললে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লাল হোসেন তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন মোল্লাকে ফোন করেন। পরে ইউসুফ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতা-কর্মী হাসপাতালে এসে চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের মারধর করেন। এ সময় ওই চিকিৎসক দৌড়ে হলরুমে গিয়ে আশ্রয় নিলে তাকে দ্বিতীয় দফায় ধরে এনে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী, একই পদে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, ঘটনাস্থলে এলে তাকেসহ আব্দুল্লাহ আল কামালকে আটকে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মবিরতিতে যান। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান জানান, হাসপাতালে কোনো সমস্যা হতেই পারে। তবে এভাবে মব সৃষ্টি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।

বিল্লাল/রিফাত/

নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মা-ছেলেকে ঘরে আটকে সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (৫ জুলাই) ভোর রাতে নাচোল পৌর এলাকার স্কুলপাড়ায় ব্যবসায়ী প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে এই চুরি হয়।

গভীর রাতে মা ও ছেলের ঘরের দরজার ছিটকিনি বাইরে থেকে আটকে রেখে পাশের ঘর থেকে চোর স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নাচোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ওই বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত মোহাম্মদ হোসেনের মেজো ছেলের স্ত্রী কলেজশিক্ষিকা মোসা. রোজি শাহানাজ তুষ্টি (৪৮) ও তার ছেলে মো. তাবিব হাসান (১৪) রাতের খাওয়া শেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখে আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে রোজি শাহানাজ তুষ্টি দেখতে পান তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকানো। এ সময় তিনি পাশের কক্ষে থাকা তার ছেলেকে ডাকলে ছেলেও জানায় তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ছেলে তাবিব হাসান সিঁড়ি ঘরের দরজা দিয়ে বের হয়ে তার মায়ের ঘরের দরজার ছিটকিনি খুলে দেয়। তার দাদি খাইরুন নেসার ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান স্টিলের আলমারি, ওয়ার্ডরোব ও ড্রয়ার খোলা এবং আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চোর আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ভেতরে থাকা আনুমানিক সাড়ে ১০ ভরি স্বর্ণের গহনা (যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৩ লাখ টাকা) এবং নগদ ২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। খাইরুন নেসা কয়েক দিন আগে ঢাকায় ছেলের বাসায় আসেন। তারপর থেকে তার ঘর বন্ধ ছিল। 

চোর পাশের আরেকটি বাড়িতেও হানা দেয় বলে জানা গেছে। তবে ওই বাড়ি থেকে কী নিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। 

চুরির বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ খবরের কাগজকে জানান, চুরির ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
গোপালগঞ্জে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৪০জন যাত্রী আহত হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১নং ব্রীজে এ ঘটনা ঘটে।

মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চন্দ্রা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বরিশাল থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের ওপর উঠলে অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হন।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে।

বাদল/রিফাত/