এ যেন ঈদের আমেজ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বন্দর নগর চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ। নির্বাচনের পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ সময় আপনজনদের সঙ্গে কাটাতে গ্রামে ছুটছে মানুষ। তবে এর সুযোগ নিচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। আদায় করছে বাড়তি ভাড়া।
এদিকে, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি এলাকায় গাড়ি রিকুইজেশন করেছে প্রশাসন। যে কারণে রাস্তায় সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির সংখ্যাও কমে গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশদ্বার একে খান গেইট, শাহ আমানত সেতু এলাকা, এবং অক্সিজেন মোড়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ যানজট শুরু হয়। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় হাজারো মানুষকে। যারা ভোট দিতে গ্রামে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন। শাহ আমানত সেতু দিয়ে মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবানের যাত্রীরা যাতায়াত করেন। শাহ আমানত সেতু এলাকায় একাধিক যাত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণের চেয়েও বেশি আদায় করা হচ্ছে। ৮০ টাকার ভাড়া দাবি করা হচ্ছে ২০০ টাকা।
নুরুল ইসলাম নামে পটিয়ার এক যাত্রী খবরের কাগজকে জানান, পটিয়ার ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু ১০০ টাকায়ও যেতে পারছি না। আহমদ হোসেন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকের সঙ্গে পরিবার আছে। তাদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় দিয়ে উত্তর চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটির যাত্রীরা যাতায়াত করেন।
অক্সিজেন মোড় এলাকার একাধিক যাত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ছোট-বড় সব ধরনের গাড়ির ভাড়া হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। এসব দেখার জন্য কেউ আছে বলে মনে হয় না। আজিজুল হাকিম নামে বাগান বাজারের এক যাত্রী জানান, স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যাও কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন পর উৎসবের আমেজে ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। ভোটাররা যাতে স্বাচ্ছন্দে বাড়ি যেতে পারেন, প্রশাসনের সেই বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত। এখন দেখা যাচ্ছে সাধারণ গণপরিবহনগুলো তারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য রিকুইজেশন করে উল্টো ভুমিকা পালন করছে। যা হওয়া মোটেও সমীচিন ছিল না। অপরদিকে, যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। চালকরা সেই সুযোগ নিচ্ছে।
ফটিকছড়ির যাত্রী নুরুল আলম জানান, তিনি পরিবার নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সবসময় বাড়িতে যান। এবারও ভোট দেওয়ার জন্য পরিবার নিয়ে বের হয়েছেন। অক্সিজেন মোড়ে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ভাড়া দাবি করা হচ্ছে হাজার টাকা। যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ।
একইচিত্র দেখা গেছে অলংকার এবং একে খান মোড়েও। যাত্রীতে ঠাসা একে খান মোড়ে তুলনামূলক গাড়ির সংখ্যা কম ছিল। যাত্রীদের কাছ থেকে গাড়ি চালকরা যে যার ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য অধিকাংশ গাড়ি রিকুইজেশন করেছে। যেহেতু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশাসন কাজটি করেছে সেখানে আমরা বাধা দিতে পারিনা। একারণে সড়কের গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে।
অপরদিকে, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য দলে দলে বাড়ি যাচ্ছে। যেকারণে গাড়ির সংকট তৈরি হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সমিতি কোনো অভিযোগ পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহফুজ/