কক্সবাজারে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। মুকুলের সোনালি আভায় ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। আর ভোরের হাওয়ায় ভেসে আসা মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখরিত শহর থেকে গ্রাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় আমগাছে দুলছে কচি মুকুল। অনুকূল আবহাওয়া আর তুলনামূলক কম কুয়াশায় এবার অধিকাংশ গাছেই একসঙ্গে মুকুল এসেছে। এতে আশার আলো দেখছেন বাগানমালিক ও চাষিরা।
সদরের বাংলাবাজার এলাকার আমবাগান মালিক সরোয়ার কামাল বলেন, ‘এবার গাছে ভালো মুকুল এসেছে। নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’
চকরিয়ার বাগানমালিক নেজাম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ বেশি। ঝড়-বৃষ্টি না হলে ফলন ভালো হবে।
উখিয়ার আমচাষি খাইরুল আমিন বলেন, ‘যথেষ্ট পরিচর্যার মাধ্যমে আমের মুকুলগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’
এদিকে আম বড় হওয়ার আগেই অনেক ব্যবসায়ী কাঁচা অবস্থায় বাগানমালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম কিনে নেওয়ায় বাজারে পাকা ও পরিপক্ব আমের প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু খবরের কাগজকে বলেন, ‘অপরিপক্ব অবস্থায় আম সংগ্রহের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। আম একটি মৌসুমি ফলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রং ধারণ ও মিষ্টতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দরকার। সেই সময়ের আগেই গাছ থেকে আম পেড়ে নেওয়া হলে ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। এতে ভোক্তারা যেমন প্রতারিত হন, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ‘অগ্রিম বিক্রির চাপে বাগানমালিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই আম তুলতে বাধ্য হন। এতে গাছের স্বাভাবিক ফলন চক্র ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমরা চাই, কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন বিষয়টি মনিটরিং করুক এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম বাজারজাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিক।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক খবরের কাগজকে বলেন, চলতি বছরে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৪৭ হেক্টর জমিতে আম আবাদ হয়েছে। রামু ও উখিয়া উপজেলায় আমের চাষ বেশি হয়। বর্তমানে অধিকাংশ বাগানে ভালো মুকুল দেখা যাচ্ছে। যদি এ মাসের শেষে উচ্চ তাপপ্রবাহ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১৩ হাজার ৩৬৫ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত কাঁচা আম আগাম সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হয় না। তবে পরিপক্ব আম প্রাকৃতিক ঝড় বা অন্য কারণে গাছ থেকে ঝরে পড়লে বাজারে সেসব আম দেখা যায়। পরিপক্ব হওয়ার আগে গাছ থেকে আম বা যেকোনো ফল সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভোক্তার স্বার্থ ও ফলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।