ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন

প্রত্যাশিত অর্থ না পেয়েই ৩ জনকে খুন

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ পিএম
প্রত্যাশিত অর্থ না পেয়েই ৩ জনকে খুন
গ্রেপ্তার সাগর আলী ও তার স্ত্রী ঈশিতা বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সোমবার (২ অক্টোবর) রাতে গাজীপুরের শফিপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল।

র‌্যাব জানায়, কবিরাজ সেজে তারা আশুলিয়ার ওই বাসায় ঢোকেন। এরপর কৌশলে ইসবগুলের শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাসার তিন জনকে খাইয়ে দেন। শরবত খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়লে বাসায় আশানুরূপ অর্থ না পেয়ে একে এক তিন জনকে গলা কেটে হত্যা করেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন– হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সাগর আলী (৩১) ও তার স্ত্রী ঈশিতা বেগম (২৫)। এর আগে ২০২০ সালে একই কায়দায় টাঙ্গাইলে চারজনকে হত্যার ঘটনায় আসামি ছিলেন সাগর।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ৯০ হাজার টাকা চুক্তিতে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে বাসায় গিয়ে ইসবগুলের শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তানকে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, নিহত মোক্তার হোসেন ও তার স্ত্রী সাহিদা বেগম আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার সন্তান মেহেদী হাসান জয় স্থানীয় একটি স্কুলে ৭ম শ্রেণির ছাত্র। ওই দম্পতি চাকরির উদ্দেশে সন্তানসহ বেশ কিছুদিন আগে ঠাকুরগাঁও থেকে আশুলিয়ায় এসে বসবাস শুরু করেন।

মঈন বলেন, এরমধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাভারের আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় বহুতল ভবনের ৪র্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়ারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেন। পরে ফ্ল্যাট থেকে তাদের অর্ধগলিত গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর রোববার (১ অক্টোবর) আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা হয়। এরপর র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের শফিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মো. সাগর আলী ও তার স্ত্রী ঈশিতা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে লুট করা আংটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দম্পতি জানান, প্রথমে অর্থের লোভে এবং পরে ওই অর্থ না পেয়ে ক্ষোভ থেকে তাদের হত্যা করা হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে র‌্যাব মুখপাত্র জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার সাগর সাভার বারইপাড়া এলাকার একটা চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় মোক্তারকে পাশের একটি কবিরাজি ও ভেষজ ওষুধের দোকানে তার শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে কথা বলতে দেখেন। সাগর জানতে পারেন, মোক্তার ওই দোকানে ভেষজ ও কবিরাজি চিকিৎসা বাবদ ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করেও কোনো ফল পাননি। এরপর সাগর কৌশলে মোক্তারকে ডেকে নিয়ে আলাপচারিতায় ভেষজ ও কবিরাজি চিকিৎসার প্রতি তার আগ্রহ ও আস্থার কথা জানতে পারেন। মোক্তার তার ও তার পরিবারের বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও সাগরকে জানান। এরপর সাগর জানান, তার স্ত্রী একজন ভালো কবিরাজ এবং তিনি তার সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ৯০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। সাগর ও তার স্ত্রী পরেরদিন (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ওষুধসহ তার বাসায় গিয়ে চিকিৎসা করবেন বলে জানান। যোগাযোগের জন্য মোক্তারকে সাগর নিজের নম্বর না দিয়ে এক আত্মীয়ের মোবাইল নম্বর দেন।

কমান্ডার মঈন বলেন, বাসায় গিয়ে সাগর ঈশিতাকে পুরো ঘটনা ও পরিকল্পনার কথা জানান। স্ত্রী নগদ বিপুল অঙ্কের অর্থ পাওয়ার আশায় রাজি হন। তারা পরিকল্পনা করেন ভুক্তভোগী মোক্তারের বাসায় গিয়ে ভেষজ ও কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে তার পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাদের অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর গাজীপুরের মৌচাক এলাকার একটি ফার্মেসি থেকে এক বক্স (৫০ পিচ) ঘুমের ওষুধ কেনন। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে সাগর ও তার স্ত্রী গাজীপুরের মৌচাক থেকে মোক্তারের সঙ্গে জামগড়া মোড়ে সাক্ষাৎ শেষে বাসায় যান। সেখানে প্রাথমিক পরিচয়ের পর ঈশিতা তাদের সমস্যার কথা শুনেন এবং ইসবগুলের শরবতের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে কৌশলে খাওয়ান। ওষুধ খেয়ে মোক্তার, তার স্ত্রী ও ছেলে ঘুমিয়ে পড়লে সাগর ও তার স্ত্রী মিলে প্রথমে মোক্তারের কক্ষে গিয়ে মোক্তারের হাত ও পা বাঁধেন, পরে মোক্তারের স্ত্রীর হাত-পা বাঁধেন।

পরে তারা মোক্তারের মানিব্যাগ, তার স্ত্রীর পার্স ও বাসার অন্য স্থানে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর জন্য তল্লাশি করে মাত্র ৫ হাজার টাকা পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাসার বটি দিয়ে প্রথমে মোক্তারের গলায় উপর্যুপরি কোপ দিয়ে হত্যা করেন। পরে অন্য কক্ষে গিয়ে ছেলে ও স্ত্রীকে একই বটি দিয়ে পর্যায়ক্রমে কুপিয়ে হত্যা করেন। পালানোর আগে তারা মোক্তারের হাতে থাকা আংটি খুলে নিয়ে যান।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন জানান, গ্রেপ্তার দম্পতি ভিন্ন পথে রিকশাযোগে গাজীপুরের মৌচাকে তার শ্বশুরবাড়ি যান এবং সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারের পর তারা আত্মগোপনে চলে যান।

২০২০ সালে একই কায়দায় টাঙ্গাইলে সাগর চার জনকে হত্যা করেছে এমনটা জানিয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন পেশার আড়ালে চুরি ও ছিনতাই করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুরে ২শত টাকার জন্য একই পরিবারের চার জনকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে একই কায়দায় গলা কেটে হত্যার আসামি ছিলেন সাগর। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাগর গ্রেপ্তার হয়ে সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করে ২০২৩ সালের জুন মাসে জামিন পান।

দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকায় আসামির আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার সুবাদে বিভিন্ন রকম কাজকর্ম করতেন। তিনি রাজমিস্ত্রি, কৃষি শ্রমিকের কাজকর্ম করার কারণে ঢাকা, সিলেট ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন। অনেক সময় পেশার আড়ালে সুযোগ বুঝে চুরি ছিনতাই করতেন।

 

মাজারে ‘শিকল সাইজি’ সেজেও রক্ষা হলো না মানিকের খুনি লিটনের

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
মাজারে ‘শিকল সাইজি’ সেজেও রক্ষা হলো না মানিকের খুনি লিটনের
আসামি লিটন। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরা জেলার আলোচিত ‘মানিক লাল ডোম’ হত্যা মামলার দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলাতক আসামি লিটনকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল ঢাকা মেট্রোপলিটনের শাহ-আলী মাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বিবরণ ও আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম মানিক লাল ডোম মাগুরা সদর থানাধীন হাসপাতাল পাড়ার (ডোমপাড়া) বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে ভিকটিম তার ৯ বছর বয়সী ছেলে সান বাবুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ জুন ভোরে সানবাবু ঘুম থেকে জেগে তার বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরবর্তীতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এর আগে এই মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসান আকাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভিকটিম মানিক লালের সঙ্গে ঝন্টু, লিটন সাইজিসহ অন্যদের বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে ২০২১ সালের ৩০ জুন রাতে আসামিরা ঘুমন্ত মানিক লালের ঘরে ঢুকে দা দিয়ে গলাকেটে তাকে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি লিটন নিজেকে আড়াল করতে দেশের বিভিন্ন মাজারকেন্দ্রিক ‘শিকল সাইজি’ ছদ্মনাম ধারণ করে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে র‌্যাব তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।

আজিজুল হাকিম/তামান্না রুপা/

ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার
তহুরুল মোল্লা তরি

পাবনার ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১০) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মো. তহুরুল মোল্লা তরি (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিশুটির বাবা আব্দুল মালেক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। 

শিশুটির বাড়ি উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের খড়ের দাইড় এলাকায়। শিশুটি ইউনিয়নের সুতানদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

আসামি তহুরুল মোল্লা তরি একই এলাকার বাসিন্দা। 

মামলার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে খয়ের দাইড় এলাকায় প্রায়ই  শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করত। খারাপ কথাবার্তা বলতো তহুরুল মোল্লা। গত ১২ জুলাই বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ছুটি শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে খড়ের দাইড় এলাকায় তহুরুল মোল্লার বাড়ির সামনে এলে তহুরুল ওই শিশুর পথরোধ করে। যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে টানাহেঁচড়া করে পোশাক ছিঁড়ে ফেলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। 

পরে বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানায় শিশুটি। পরে তার মা-বাবা তহুরুল মোল্লার পরিবারকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তার পরিবারের সদস্যরা তা কর্ণপাত না করে উল্টো শিশুর পরিবারকে হুমকি দেয় ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান  জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে অভিযান চালিয়ে তহুরুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন/খাদিজা রুমি/

বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম
আহত মাদরাসাছাত্র আল-রাফি। ছবি: খবরের কাগজ

সাত বছরের ছোট্ট আল-রাফির জীবনে মায়ের স্নেহ নেই। সেই শূন্যতা নিয়েই বাবার হাত ধরে তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় বাবা তাকে ভর্তি করেছিলেন স্থানীয় এক মাদরাসায়। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে আদর, শিক্ষা আর মানবিকতা পাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই সে ফিরে এল কান্না, ফুলে যাওয়া হাত আর ভয়াবহ মানসিক আতঙ্ক নিয়ে।

অভিযোগ উঠেছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। বেত্রাঘাতে আল-রাফির (৭) বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে তারই বেতের আঘাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে। ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আল-রাফির বাবা মো. মিজানুর রহমান।

শিশুটির বাবা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও ছেলে মাদরাসায় গিয়েছিল। কিন্তু সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। আর এসেই বলে আমি আর জীবনে মাদরাসায় যাবো না। পরে ছেলে আমাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে দেখি ছেলের বাম হাত ফুলে গেছে, সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। আর পিঠে বেতের আঘাতে দাগ হয়ে গেছে। পরে দ্রুত মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।

আল-রাফি জানায়, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন এবং গালে একটি থাপ্পড় দেন। ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে বলা হয়, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের আগে সেটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও মারধর করা হবে।

এ ঘটনার পর শিশুটি শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে বলে জানান তার বাবা। এখন মাদরাসার নাম শুনলেই সে ভয় পায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

আল রাফির দাদা ও দাদির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমার নাতিটি মা-হারা। পড়া না পারায় তাকে এমনভাবে পিটিয়েছে যে হাতের হাড় ফেটে গেছে। মারধরের পর যাতে সে কান্না করতে না পারে, সেজন্য মুখে কলম গুঁজে দিয়েছিল। এলাকার মুরুব্বি ও মাদরাসার কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষককে পালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। আর কোনো শিশুকে যেন এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। ওর দিকে তাকালেই কান্নায় বুকটা ফেটে যায়।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলেটি পড়ার সময় অমনোযোগী ছিল। তাই তাকে দুটি বাড়ি দিয়েছি। একটি হাতে লেগেছে, আরেকটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লেগেছে। তখন বুঝতে পারিনি, পরে শুনেছি হাতের হাড় ফেটে গেছে। এটা আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক ঘটনাটিকে অন্যায় স্বীকার করে বলেন, ‘আব্দুল্লাহ হুজুর নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। আগামী শুক্রবার বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। বিচার শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মামলা করার জন্য তাদেরকে আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও আসেনি। তারা আসলে মামলা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আসাদ/নাঈম

বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর...

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর...
আটক আসামি মো. আমিনুল। ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুটি শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত আমিনুলকে গ্রেপ্তার করেছে বোদা থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী দুই শিশু তার প্রতিবেশী ছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুরা অভিযুক্ত আমিনুলকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। এই সুবাদে তারা মাঝেমধ্যে আমিনুলের বাড়িতে খেলতে যেত। বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা কেউ না থাকার সুযোগে আমিনুল কৌশলে বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুদের বিভিন্ন সময়ে নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করতেন এবং ঘটনার পর শিশুদের কান্না করতে নিষেধ করতেন। শিশুরা যদি এ ঘটনা কাউকে জানায় তাহলে শিশুদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন।

গত শুক্রবার ও শনিবার ৬ বছর বয়সী শিশুকে এবং রবিবার একইভাবে ৫ বছর বয়সী অন্য শিশুকে ধর্ষণ করেন আমিনুল।

ভুক্তভোগী এক শিশুর বড় আম্মা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, শিশু দুটিকে অস্বাভাবিক কান্না করতে দেখে তিনি কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তখন ৬ বছর বয়সী শিশুটি ভয়ে কিছুই বলতে না পেরে শুধু কাঁদছিল। এরপর পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয় এবং পরে তাদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাছুদ হাসান বলেন, গত রাতে দুটি শিশুকে তাদের পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক পরীক্ষার সময় শিশুদের শরীরে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। শিশু দুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলামকে আটক করেছি। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলার এজহার দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

রনি/নাঈম

দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার চারজন/ খবরের কাগজ

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মকবুল হোসেন ( ৫৪) হত্যা মামলার চার আসামিকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম  থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল সোমবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), মো. বাবু মিয়া (২২), মোছাম্মৎ শাহানারা বেগম (৩৮),  মো. হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২৩ জুন সকালে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কুশিয়ারা গ্রামের মো. ইকবাল হোসেনের বসত ঘরের সামনে জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. মকবুল হোসেনকে বিবাদীরা মারধর করেন। গুরুতর জখম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মকবুল হোসেন মারা যান।

এর পরে ২৭ জুন মকবুল হোসেনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন।

লিটন সরকার/তামান্না রুপা/