রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রী তহুরা হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া বিফ্রিংয়ে মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
প্রথম মামলায় এনামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ১৮ কোটি ৮ লাখ ২৮ হাজার ৯২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে তা দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া ২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ২২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ হাজার ১২০ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা জমা এবং ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যার মোট পরিমাণ ২ হাজার ২৩৯ কোটি ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬০২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন। উক্ত অর্থের উৎস গোপন করতে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় এনামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় এনামুল হকের স্ত্রী তহুরা হক ও এনামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তহুরা হক তার স্বামীর সহায়তায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৮২৭ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন। পাশাপাশি তার নামে থাকা দুটি ব্যাংক হিসাবে ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩ কোটি ৪০ লাখ ১৬ হাজার ২৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই মামলায় উভয়ের বিরুদ্ধে একই আইনের ধারা ছাড়াও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিন।
দুদক জানায়, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের উৎস ও লেনদেনের বিস্তারিত অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বাসস
সুমন/