মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। তার পরও কমছে না দাম। ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ১৫০-১৬০ টাকা কেজি। ডিমের দাম বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে। ভরা মৌসুমেও চালের দাম কমেনি।
আগের মতোই মাছ ও মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে কেজিতে ২০-৪০ টাকা বাড়লেও এ সপ্তাহে কমেনি রসুনের দাম। দেশি রসুন কমে যাওয়ায় বিদেশি রসুন ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি নতুন রসুন না ওঠা পর্যন্ত দাম কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান।
আগের সপ্তাহের মতোই নতুন আলু ৬০-৬৫ ও পুরোনোটা ৫০ টাকা কেজিতে বেচাকেনা হচ্ছে। লাল গোল আলু ৮০ টাকা কেজি। টাউনহল বাজারের সবজি বিক্রেতা রকিব ও ইয়াসিন জানান, পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা থেকে কমে নতুন পেঁয়াজ ১২০ টাকা ও পুরোনোটা ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। তবে আগের মতোই আদা এখন ২৪০ টাকা কেজি।
তারা আরও জানান, আগের মতোই পাতা ও ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা পিস, বেগুন, ঢ্যাঁড়শসহ প্রায় সবজিই ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম কমে ৮০-১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা, গাজর, পটোল ও করলা ৬০-৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, শাকের আঁটি ১০-২০ টাকা।
কমেনি মাংসের দাম
এখনো পিকনিক, বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু না হলেও কমেনি মাংসের দাম। বিভিন্ন বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, গরুর মাংস রেট করা। ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুর টাউনহলের জহির অ্যান্ড জাহিদ মাংস বিতানের আ. রশিদ ও ভাই ভাই মাংস বিতানের জামান জানান, গরুর মাংস রেট করা। ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু এই কয়েকজনই নয়, রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, ৬৫০ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি করছেন তারা।
খাসির মাংস ১০০০-১০৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় মাংস বিতানের জসিম বলেন, ‘আগের মতোই ১০০০ টাকা কেজি খাসির মাংস। বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হলে সামনে মাংসের দাম বাড়তে পারে।’
মুরগির দাম সামান্য বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সুমন এ প্রতিবেদককে জানান, দাম সামান্য বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫-১০ টাকা বেড়ে পোলট্রি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি ৩০০-৩২০ টাকা। তবে আগের মতোই দেশি মুরগির কেজি ৫০০-৫৩০ টাকা।
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে ডিমের ডজনে দাম কিছুটা বেড়েছে। সাদা ডিমের ডজন ১২৫ টাকা ও লাল ডিম ১৩০-১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
মাছও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানান। টাউনহল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুলসহ অন্যরা জানান, রুই, কাতল মাছ আকারভেদে ২৬০-৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ি ৬০০-১০৫০ টাকা, শিং ৫০০-৬৫০ টাকা, মলা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২৪০, কই ২৫০-৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০-৭০০ টাকা, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আগের মতোই চালের দাম
মাঠ থেকে নতুন ধান উঠে গেলেও চালের বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই নতুন মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা ও ২৮ চাল ৫০-৫২ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। মিনিকেট চাল আগের মতোই ৬২-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চালের দাম আরও বেশি। ৯০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে টাউনহল বাজারের নোয়াখালী স্টোরের আ. মান্নান ও ফেনী রাইস এজেন্সির ইউসুফ জানান।
এখনো পাওয়া যায় না চিনি
সরকার চিনির দাম বারবার বেঁধে দিলেও অনেক বাজারেই তা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দিন থেকে বাজারে খোলা চিনি নেই বলে বিক্রেতারা জানান। তবে ১৪৮ টাকা প্যাকেট চিনি মাঝেমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। প্যাকেট ২ কেজি আটা ১৩০ টাকা, ডাল ১১০-১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।