তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও সোনালি ২৮০ টাকায় নেমেছে। ডিমের ডজনেও ৩০ টাকা কমে ১৫০ টাকা হয়েছে। আদা, রসুন, সবজি, মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে জ্বালাও-পোড়াও এবং লুটতরাজ কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে। পথে পথে চাঁদাবাজিও বন্ধ হচ্ছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে শুরু করেছে। তবে আগের মতোই চাল, গরু ও ছাগলের মাংস এবং মাছের দাম রয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। মূল্য আরও কমুক এটাই চাই।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্রয়লারের কেজি ১৬০-১৭০ টাকা
দুই দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, সোনালি ২৮০ টাকা ও দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ টাকায় নেমেছে। দামের ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের সততা মুরগি আড়তের মালিক বাহার ও জনপ্রিয় পোলট্রি হাউসের আমির বলেন, ‘ভয়, আতঙ্ক কাটায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুরগি আসছে। সে তুলনায় ক্রেতা নেই। তাই প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২০-৩০ টাকা। পথে চাঁদাবাজিও কমতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও কমতে পারে। ব্রয়লারের দাম কমে ১৬০-১৭০ টাকা, সোনালি ২৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা হয়েছে।’
গরুর মাংসের দামও কমে ৭৫০ টাকায় কেজি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। হাতিরপুল বাজারের মাংস বিক্রেতা বিল্লাল বলেন, ‘৮০০ টাকার গরুর কেজি বর্তমানে ৭৫০ টাকা।’
কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজারের মাংস বিক্রেতারাও জানান, গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি।
স্থিতিশীল চালের বাজার
কয়েক দিন সহিংসতা চললেও বাড়েনি চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, আগে থেকেই সবার কাছে চালের মজুত রয়েছে। তাই দাম বাড়েনি। মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা, আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা, মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
ডিমের ডজন ১৫০ টাকা
সরবরাহ বাড়তে থাকায় ডিমের দামও ডজনে ৩০ টাকা কমে ১৪৫-১৫০ টাকায় নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, আমরা সামান্য লাভ করি। আড়তে কমেছে দাম। এ জন্য আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। দুই দিন আগে ১৮০ টাকা বিক্রি করা হলেও গতকাল ১৪৫-১৫০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। দামের ব্যাপারে করিম স্টোরের আয়েন বলেন, সরবরাহ বেড়েছে, কমেছে দাম। ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে।
এই বাজারের ইয়াসিন স্টোরের মালিক ইয়াসিন বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আসছে। চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে। তাই বাড়েনি কোনো জিনিসের দাম। আগের মতোই মসুর ডাল ১২৫-১৪০ টাকা, ছোলার দাম ১১০-১১৫, এক লিটার সয়াবিন তেল ১৬৫ ও পাঁচ লিটার ৮০০-৮১০, চিনির কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ‘পেঁয়াজ আগের মতোই ১২০-১৩০ টাকা, আলু ৬০-৭০ টাকা। তবে ২৮০-৩২০ টাকার আদা ৩০০ টাকা ও ২৬০ টাকার রসুন ২০০-২৩০ টাকায় নেমেছে।
মরিচের কেজি ২০০ টাকা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় কারওয়ান বাজারে প্রচুর সবজিভর্তি ট্রাক আসছে। এ জন্য দামও কমছে। দুই দিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে। তবে মরিচের দাম ১০০ টাকা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান।
তারা আরও জানান, বেগুন ৭০-১০০ টাকা, করলা ৮০-১০০, পটোল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুলের কেজি ৪০-৬০ টাকা। ঝিঙ্গা, মুলা ৫০-৬০, পেঁপে ৫০-৬০, শসার ৫০-৬০, বরবটি ৯০ টাকা। টমেটো, গাজর ১৮০ টাকা, কচুরমুখী ৭০-৮০ টাকা কেজি। লাউডগার শাক ও পুঁইশাকের আঁটি ২৫-৩০ টাকা। এ ছাড়া কলমি শাক, লাল শাক, পালং ও পাট শাকের আঁটি ১০-১৫ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন বাজারের মাছ বিক্রেতারাও জানান, দুই দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য দামও কমতির দিকে। রুই, কাতলা ৩৫০-৭০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫৫০-১৪০০ টাকা কেজি। ট্যাংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০, পাঙাশ, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, ইলিশের কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে বড় ইলিশের কেজি ২ হাজার টাকা বলে বিক্রেতারা জানান।