চট্টগ্রামে পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ভারতীয় পেঁয়াজে ১৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজে ১০ টাকা কমেছে। আর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে।
গত ৮ জানুয়ারি খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে পাইকারি এই বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে খাতুনগঞ্জে কমে আসে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। অর্থাৎ গত ২৬ ডিসেম্বর পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু নতুন বছর আসতেই দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করেন ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে গত ১ জানুয়ারি পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৩ টাকা, ৩ জানুয়ারি ৬০ টাকা ও ৬ জানুয়ারি ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। অপরদিকে গত ৩ জানুয়ারি খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৮ টাকায় বিক্রি হলেও ৮ জানুয়ারি দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৫০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সরবরাহ বাড়ায় পণ্যটির দাম কমেছে। আশা করছি, পেঁয়াজের দাম সহসা আর বাড়বে না।’
এদিকে পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। দুই সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. শাহনেওয়াজ খবরের কাগজকে বলেন, ‘খুচরা দোকানের তুলনায় ভ্যানগাড়িতে আরও কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তারা আড়াই কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।’
এদিকে কাজীর দেউড়ি ও রিয়াজুদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৫ টাকা, সোনালি মুরগির কেজিতে ১০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কমতে শুরু করেছে মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি রুই মাছে (বড় সাইজ) ২০ টাকা কমে ৩৬০ টাকা, কেজিতে ৫০ টাকা কমে লাল পোয়া ৪০০ টাকা, রূপচাঁদার কেজিতে ১০০ টাকা কমে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে কোরাল, কাতলা ও তেলাপিয়া মাছ আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা, কোরাল ৬০০ টাকা ও তেলাপিয়া ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শিমের বিচি ৯০ টাকা ও বরবটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।