কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা পণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা দিচ্ছেন সরবরাহ সংকট ও বাড়তি গাড়ি ভাড়ার অজুহাত। অন্যদিকে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলেই অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
শনিবার (৯ মে) সকালে খাতুনগঞ্জে বাজার যাচাই করে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজে (হালি জাতের পেঁয়াজ) ৫ টাকা এবং চায়না আদা ও রসুনের কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে।
পেঁয়াজে দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত বাস্তবায়ন
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে খাতুনগঞ্জে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৮ টাকায়। এই দর চলতি মাসের শুরুতেও অব্যাহত ছিল। গত মাসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা মে মাসে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবে বলে খবরের কাগজকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মে মাস আসতেই সেই ইঙ্গিত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় ইতোমধ্যে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৩ টাকায় বিক্রি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে দেশে উৎপাদিত হালি পেঁয়াজ রয়েছে। গত মাসে নিম্ন মানের দেশি পেঁয়াজ মজুত ছিল। সেগুলো কেজিপ্রতি ১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নিম্ন মানের দেশি পেঁয়াজ মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। এখন ওই মজুত শেষ হয়ে আসতেই ভালো মানের পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চায়না থেকে আনা আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে চায়না আদা ১১০ টাকা এবং চায়না রসুন ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, প্রতিবছর ঈদসহ অন্যান্য উৎসব ঘনিয়ে আসতেই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা খুব দুঃখজনক। মুনাফার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। জানি না তাদের শুভবুদ্ধির উদয় কবে হবে।
যা বলছেন ব্যবসায়ীরা
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমদানীকৃত আদা, রসুনের সরবরাহ কম। তাই সামনে হয়তো এগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত দাম বাড়বে না। আশা করছি, কোরবানির ঈদে সাধারণ মানুষ বাজার করতে স্বস্তি পাবেন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, কিছু কিছু মসলা পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কারণ পণ্য পরিবহন খরচ বেড়েছে। আর এর মাশুল দিতে হয় ভোক্তাদের। তবে অন্যায়ভাবে দাম বাড়ানো মোটেই কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে বাজার তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
সঠিক তদারকির অভাব, বলছে ক্যাব
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কোরবানির ঈদের আর বেশি দিন নেই। পূর্বপ্রস্তুতি নিতে এখন থেকেই মানুষ মসলা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগটা পান। তাই জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের উচিত ভোক্তার স্বার্থে এখন থেকেই বাজার তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা অভিযানে অপরাধের প্রমাণ পেলে শুধু আইনানুগ ব্যবস্থাই গ্রহণ করি না, পাশাপাশি ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা রাখাসহ সব ধরনের পরামর্শ ব্যবসায়ীদের দিয়ে থাকি। কেউ তা অমান্য করলে অবশ্যই কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।’