ওষুধের মান নিয়ে এখন অনেকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেক চিকিৎসক এ নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে রোগীর বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তদারকিতে নেমে এমন কিছু নিম্নমানের ও নকল বা ভেজাল ওষুধ জব্দ কিংবা নিষিদ্ধ করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে বাজারে এমন শত শত ওষুধের ছড়াছড়ি। যা মানুষ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করে একদিকে প্রতারিত হচ্ছেন; অন্যদিকে সুস্থ হওয়ার চেয়ে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দেশে এমন ওষুধের বাজারজাতকরণের পেছনে এর কাঁচামাল আমদানিকারক বিশেষ চক্রকে দায়ী করা হয়। যাদের সঙ্গে কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও কাঁচামাল বিক্রেতা চক্রের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিছুসংখ্যক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে কোনো না কোনোভাবে লাইসেন্স বের করে নামমাত্র কিছু ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাত করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মূল ব্যবসা থাকে, সরকারি কোটা কাজে লাগিয়ে বিদেশ থেকে স্বল্প মেয়াদের কাঁচামাল খুঁজে বের করে কিনে দেশে এনে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। বিশেষ করে রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় এই চক্রের মাধ্যমেই বড় বেচাকেনা চলে বছরের পর বছর। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও তাতে খুব একটা লাভ হয় না। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় তাদের রোষানলে পড়ে।
দেশের ওষুধ খাতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আসে। কিন্তু সে খাতে ভেতরের পরিস্থিতি নাজুক। বৃহৎ জনসংখ্যার সুযোগ নিয়ে বড় ওষুধের বাজারে যেনতেনভাবে মুনাফা করে একটি গোষ্ঠী আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। ১৫-২০ বছরে দেশে ওষুধ খাতের পরিধি যে হারে বেড়েছে, ঔষধ প্রশাসনের সামর্থ্য সে হারে বাড়েনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এই খাতের ব্যবসায়ীরাও চান না এই প্রশাসনের শক্তি বৃদ্ধি হোক কিংবা একটি স্বচ্ছ তদারকি ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। ওষুধ খাতের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণও চোখে পড়ছে না। লোক দেখানো অভিযান চলে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পান না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ওষুধ খাতে খুবই নাজুক অবস্থা চলছে। এখানে দুইভাবে ওষুধ তৈরি হচ্ছে। বিদেশে রপ্তানির ওষুধে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে তৈরি করা হয়। কিন্তু দেশের বাজারে থাকা ওষুধের মানে কঠোর কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই, যা খুবই দুঃখজনক। ওষুধ কখনো দুই রকম হতে পারে না।
দেশের মানুষ নিম্নমানের ভেজাল ওষুধ খেয়ে যে হারে মৃত্যুবরণ করছে, তার হিসাব কারও জানা নেই। এটা বাজারে এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে যে, প্রশাসন অভিযান চালালেই নকল ও ভেজাল ওষুধ ধরা পড়ে। মিটফোর্ডের দোকানগুলোতে ওষুধের যে কাঁচামাল বিক্রি হয় তা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। মুষ্টিমেয় অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারে গোপনে নিম্নমানের কাঁচামাল বেচাকেনা করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে।