ভালো জাতের আলু নিয়ে দেশের গবেষকরা গবেষণা করছেন। তারা ভালো জাতের আলু উৎপাদনে কাজ করলেও এর সুরক্ষায় খুব একটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না সরকার। যার প্রভাব পড়ছে চাহিদা ও জোগানের তারতম্যের ওপর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ১৮৭ জাতের আলু উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নিজস্বভাবে উদ্ভাবন করেছে ১০৪টি জাত। এ দেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আলুর জাতগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। কারণ তাপমাত্রার প্রভাবে আলু উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রার প্রভাবে নাভিদশা রোগের মতো কিছু রোগ আলুর বড় ক্ষতি করছে। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকরা নিজেরাই হিমাগারে আলু রাখছেন। বেশি দামে মোকামে বিক্রি করছেন। তাই কমছে না দাম। তাই বেশি করে উৎপাদন বা আমদানি করে সরবরাহ না বাড়ালে আলুর দাম কমবে না।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবার আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টন। উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টন। গত বছরে লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ১২ লাখ টন ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ টন। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ কোটি টন। কিন্তু কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ৯০ লাখ টন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্যমতে, এ দেশে মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন আলুর বীজ চাষ করা হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৪০ হাজার টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশ এখন আলু উৎপাদনে বেশ এগিয়েছে। ১০টি জাতের আলু কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষাধিক টন আলু রপ্তানি হলেও পরবর্তী সময় তা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
তথ্য বলছে, চলতি বছর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১ কোটি ৭ লাখ টন আলুর উৎপাদন হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কেজি ৩০ টাকায় আলু বিক্রি হয়েছে। তারপর থেকে দাম বেড়ে বর্তমানে ৫৫ টাকার কমে মিলছে না আলু। ভোক্তাদের ছোট গোল লাল আলু কিনতে কেজিতে আরও বেশি দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, হয় আমদানি করতে হবে, নতুবা উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যে ভুল তথ্য দিচ্ছে, সেই জায়গা থেকে সরে আসতে হবে। কারণ তাদের তথ্যের কারণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন বিভাগের পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী খবরে কাগজকে বলেন, দেশের ইতিহাসে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়েছে। তা ১ কোটি ৭ লাখ টন হবে। লক্ষ্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টন। বর্তমানে দেশে আলুর ঘাটতি নেই। তিনি আরও বলেন, সাড়ে ৭ লাখ টন বীজের জন্য আলু রাখা হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পচে যায়। তাতে ১০ লাখ টন কমে যায়। থাকে ৯০ লাখ টন। এ ছাড়া বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও করপোরেট কোম্পানি চিপস তৈরিতে আলু ব্যবহার করছে। এ জন্য আলুর চাহিদা বাড়ছে। সে কারণে কমছে না দাম।
আলুর সংকট নিরসনে উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। উচ্চফলনশীল জাতের আলু উৎপাদনে যেতে হবে। বীজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে হবে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছে। এ জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। বিক্রেতারা বেশি দাম নিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।