প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি দুই দেশেই নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের পর দুই দেশই নতুন করে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে। গত শনিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক-পরবর্তী দুটি চুক্তি, পাঁচটি নতুন সমঝোতা, তিনটি নবায়নসহ মোট ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুই দেশ। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ১৩টি ঘোষণা উঠে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উভয় দেশই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের পথ দেখানোর জন্য রূপকল্প ঘোষণা অনুমোদন করেছে। আমরা টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ডিজিটাল অংশীদারি এবং সবুজ অংশীদারিবিষয়ক দুটি রূপকল্প সামনে রেখে কাজ করতে দুই পক্ষই সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দিন দিন বিকশিত হচ্ছে বিভিন্ন অগ্রসরমাণ কাজের মাধ্যমে। রূপকল্প ২০৪১-এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ অনুসরণ করে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শরিক হয়েছে দুই দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ আমাদের বৃহত্তম উন্নয়ন সঙ্গী। তাদের স্বার্থকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ভারতে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল এবং সবুজ অংশীদারির জন্য যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন উন্নয়নের পথে যাত্রা হবে দুই দেশের। যেখানে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে। এবার মেরিটাইমে ফোকাস করা হয়েছে। ডিজিটাল পার্টনারশিপের কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর ভালো হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে ভারতের যোগ নিয়ে অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন যে, এতে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের টানাপোড়েন হতে পারে। আদতে বিষয়টি তেমন নয়। বাংলাদেশ যেখানে ভালো পাবে সেখানে যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি যা-ই হোক না কেন, তাতে যেন বাংলাদেশের স্বার্থটা আমরা ঠিকমতো রক্ষা করতে পারি। সেই বিষয়টা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। আমাদের কাছে যেন স্বার্থ রক্ষা করাটাই মূল লক্ষ্য হয়। দুই দেশের সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নে ভারত আগ্রহ দেখিয়েছে, এটা ইতিবাচক।
ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আঞ্চলিক অংশীদার। সে হিসেবে দুই দেশের আন্তসম্পর্ক অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। তিস্তা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হওয়াটা জরুরি। এসব অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধানমুখী চিন্তায় আগ্রহী হতে হবে। এটি নিয়ে জনমনে বেশ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বিস্তৃত করতে হবে। টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে বাংলাদেশ-ভারত এগিয়ে যাক, সেটিই প্রত্যাশা।