আজ ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক শুরু হচ্ছে। এ বিশ্বসভার অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে গত দুই মাসে ঘটে যাওয়া অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থানের বিবরণ এবং আগামী দিনের জনভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিকূলতা ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। গত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টি এই মুহূর্তে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ড. ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন বাংলাদেশের পারিপার্শ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার একটি পটপরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ গঠনে মনোযোগী হয়েছে। এ জন্য ছয়টি সংস্কার কমিশনও গঠন করেছে। একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, এই বৈঠকটির মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংস্কার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে- এমন একটি বার্তা দেবে। ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী সম্মানিত একজন ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সে হিসেবে তার বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বিশ্বনেতারা। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০ বছর পূর্তির বছর। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের নেতা, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সফলভাবে উত্তরণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের চার সদস্য। সম্প্রতি দেশের প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারকাজ চালানো ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় চিঠিতে। ড. ইউনূসের এই সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পথচলায় উন্নয়নের সহযাত্রী হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম সহযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে, এটিই প্রত্যাশা। প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের সফলতা কামনা করছি।