দ্বিতীয় অধ্যায়
শূন্যস্থান পূরণ করো
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলো দিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলের সঠিক ক্রম ব্যাখ্যা করো।
ঈগল, সূর্য, ঘাস, পোকামাকড়, সাপ, ব্যাঙ।
উত্তর: নিচের শব্দগুলো দিয়ে গঠিত খাদ্যশৃঙ্খলের সঠিক ক্রম নিচে দেওয়া হলো:
সূর্য ঘাস পোকামাকড় ব্যাঙ সাপ ঈগল
ব্যাখ্যা: সূর্য হলো সব শক্তির উৎস । সবুজ ঘাস সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। পোকামাকড় ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে। ব্যাঙ পোকামাকড়কে খায়। একইভাবে ব্যাঙকে খায় সাপ এবং সাপকে খায় ঈগল। এভাবে শক্তি উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে প্রবাহিত হয় খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে।
প্রশ্ন: জীব কীভাবে বায়ুর ওপর নির্ভরশীল, তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জীব বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। বায়ু ছাড়া প্রাণী একমুহূর্ত বাঁচতে পারে না। উদ্ভিদও বায়ু ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং বেঁচে থাকে। পানির জীব ও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
সুতরাং, বায়ু ছাড়া উদ্ভিদ ও জীব বাঁচতে পারে না। তাই বলা যায় বায়ুর ওপর জীব নির্ভরশীল।
প্রশ্ন: উদ্ভিদের জন্য বীজের বিস্তরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজের ছড়িয়ে পড়াই হলো বীজের বিস্তরণ। উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরি, বৃদ্ধি, পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণে প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। পুষ্টি উপাদানের জন্যও উদ্ভিদ প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল; প্রাণীর মৃতদেহ প্রাকৃতিক সারে পরিণত হয়। এই সার পুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে। পরাগায়নের ফলে উদ্ভিদের বীজ সৃষ্টি হয়, এই বীজ থেকে আবার নতুন উদ্ভিদ জন্মায়। বীজের বিস্তার নতুন নতুন উদ্ভিদ-আবাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এ কারণেই উদ্ভিদের জন্য বীজের বিস্তরণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: তোমার ঘরের ভেতরে রাখা গাছটি মারা যাচ্ছে। তোমার বন্ধুরা গাছটিকে জানালার পাশে নিয়ে রাখার পরামর্শ দিল। কেন?
উত্তর: আমার ঘরের ভেতরে রাখা গাছটি মারা যাচ্ছিল বলে বন্ধুরা গাছটিকে জানালার পাশে নিয়ে রাখার পরামর্শ দিল। বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের দরকার মাটি পানি বায়ু ও সূর্যের আলো। এর কারণ হলো- ঘরের ভেতরে রাখায় গাছটি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সূর্যের আলো পাচ্ছিল না। ঘরের ভেতরে রাখা গাছটি পর্যাপ্ত বায়ুও পাচ্ছিল না।
তাই বন্ধুরা বলল, জানালার পাশে রাখলে গাছটি সূর্যের আলো পাবে, খাদ্যও তৈরি করতে পারবে। ফলে গাছটি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে এবং সতেজ থাকবে।
লেখক: শিক্ষক
ফকিরেরপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
জাহ্নবী