প্রবন্ধ : সুন্দরবনের প্রাণী
বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নিচে প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ লেখ।
অপার, সম্ভার, রয়্যাল, ভয়ংকর, অমূল্য, বিলুপ্ত
উত্তর: অপার – অগাধ, অসীম।
সম্ভার – বিভিন্ন উপাদান, বিভিন্ন জিনিস।
রয়্যাল – রাজকীয়।
ভয়ংকর – ভীষণ, ভীতিজনক।
অমূল্য – যার মূল্য নির্ধারণ করা যায় না।
বিলুপ্ত – যা লোপ পেয়েছে।
প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করো।
অমূল্য, অপার, সম্ভার, রয়্যাল, ভয়ংকর, বিলুপ্তপ্রায়
ক. বাংলাদেশ…..সৌন্দর্যে ভরপুর।
খ. প্রকৃতির অপার…..সমুদ্রের নিচে রয়েছে।
গ. বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে…..বেঙ্গল টাইগার।
ঘ. বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি আবার…..।
ঙ. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের…..সম্পদ।
চ. শকুন বাংলাদেশে এখন…..পাখি।
উত্তর: ক. বাংলাদেশ অপার সৌন্দর্যে ভরপুর।
খ. প্রকৃতির অপার সম্ভার সমুদ্রের নিচে রয়েছে।
গ. বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
ঘ. বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি আবার ভয়ংকর।
ঙ. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ।
চ. শকুন বাংলাদেশে এখন বিলুপ্তপ্রায় পাখি।
প্রশ্ন: ক্যাঙ্গারু ও সিংহ বললেই কোন কোন দেশের কথা মনে হয়?
উত্তর: বিশ্বের কোনো কোনো প্রাণীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের নাম বা জায়গার নাম। বাংলাদেশের নামের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা রাজকীয় বাঘের নাম। একইভাবে ক্যাঙ্গারু বললেই মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার কথা। আর সিংহ বললেই মনে পড়ে যায় আফ্রিকার কথা।
আরো পড়ুন : সংকল্প কবিতার ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব
প্রশ্ন: দেশের জন্য পশুপাখি, জীবজন্তু কী উপকার করে তা নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তর: পশুপাখি ও জীবজন্তু প্রকৃতির পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। যেকোনো দেশের জন্যই জীবজন্তু ও পশুপাখি এক অমূল্য সম্পদ। প্রকৃতির গাছপালা, বৃক্ষলতা ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলেই সে দেশের পশুপাখি ও জীবজন্তু তথা প্রাণিকুলের জীবনধারণের উপকরণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন- শকুন পরিবেশের নানা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে। একইভাবে বিভিন্ন পশুপাখি ও জীবজন্তু আমাদের পরিবেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রেখে আমাদের উপকার করে থাকে।
প্রশ্ন: শকুন কীভাবে মানুষের উপকার করে?
উত্তর: শকুন একটি ভিন্ন প্রকৃতির পাখি। আচার-আচরণ ও স্বভাবের জন্য কেউ তাকে সুন্দর পাখি বলে না। অথচ এই শকুন মানুষের নানা উপকার করে থাকে। মানুষের জন্য যা ক্ষতিকর, সেসব আবর্জনা শকুন খেয়ে ফেলে। আর সে কারণেই আমাদের চারদিকের পরিমণ্ডল বসবাসের যোগ্য রয়েছে। আমরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছি না। শকুন প্রকৃতই এবং সত্যিকার অর্থে মানুষের উপকার ছাড়া অপকার করে না। তবে বাংলাদেশে শকুনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
প্রশ্ন: বিভিন্ন ধরনের বাঘ সম্পর্কে তুমি যা জানো লেখ।
উত্তর: বাঘ বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা রাজকীয় বাঘের ছবি। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার থাকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে। এ বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আবার ভয়ংকর। এর চাল-চলনও রাজার মতো। সুন্দরবনের ভেজা স্যাঁতসেঁতে গোলপাতার বনে এ বাঘ ঘুরে বেড়ায়। শিকার করে জীবজন্তু, সুযোগ পেলে মানুষও খায়। এক সময় সুন্দরবনে চিতাবাঘ ও ওলবাঘ ছিল। কিন্তু এখন আর এসব বাঘ দেখা যায় না। প্রাণীবিদরা বলেছেন, সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। এ বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে আমাদের বাঁচাতে হবে।
লেখক : সহকারী শিক্ষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বসুন্ধরা, ঢাকা
কবীর