গল্প : আম-আঁটির ভেঁপু
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা’ কারণ চাষারা নিয়মিত জমিতে ফসল ফলায়, ফলে তাদের অন্নের অভাব হয় না।
চাষা মানেই চাষ করার সঙ্গে যার নিবিড় সম্পর্ক। আর চাষ করা মানেই ফসলের উৎপাদন। যারা ফসল উৎপাদন করে, তাদের থাকে গোলাভর্তি ধান, সে ধান তারা সারা বছর খায়। তাদের ঘরে খাবারের বিশেষ অভাব হয় না। অন্নের বা ধন-সম্পদের দেবী হিসেবে লক্ষ্মীকে গণ্য করা হয়। ওপরের প্রশ্নে চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা বলতে খাবারের মজুতকেই বোঝানো হয়েছে। আগে যে ধনসম্পদ বা প্রাচুর্য কেবল ভদ্দর বা ধনী লোকদের ঘরেই থাকত, এখন তা চাষাদের ঘরেও এসে পড়েছে।
প্রশ্ন: মায়ের ডাকে দুর্গার উত্তর না দিতে পারার কারণ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: মায়ের ডাকে দুর্গার উত্তর না দিতে পারার কারণ তার মুখভর্তি জরানো আমের চাকলা ছিল।
দুর্গা পটলিদের বাগান থেকে আম কুড়িয়ে এনে তার ছোট ভাই অপুকে নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে খাচ্ছিল। কারণ, তাদের মা সর্বজয়া যদি এটা দেখে ফেলে, তবে রাগ করবে। খাওয়া শেষ না হতেই হঠাৎ মায়ের ডাক শুনে দুর্গা বাকি আম তাড়াতাড়ি মুখে পুরল। মা পরপর কয়েকবার ডাকল। কিন্তু মুখভর্তি আম থাকায় দুর্গা ভয়ে উত্তর দিতে পারল না। কারণ, উত্তর দিলে আম খাওয়ার ব্যাপারটা মায়ের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে।
আরো পড়ুন : ঝর্ণার গান কবিতার ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, নবম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: ‘অত বড় মেয়ে, বলে বোঝাবো কত? কথা শোনে, না কানে নেয়?’ কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: হরিহর দুর্গাকে বাড়িতে না দেখে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করায় সর্বজয়া উল্লিখিত উক্তিটি করে।
দুর্গা দুরন্ত মেয়ে। বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায় সব সময়। খিদে পেলেই বাড়িতে আসে। কোথায় কার বাগানে কার আমতলায়, জামতলায় ঘুরে বেড়ায় কেউ জানে না। তাই তো হরিহর দুর্গাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞেস করলে সর্বজয়া আলোচ্য উক্তিটি করে।
প্রশ্ন: অপুর বাবা কেন সহজে গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইল না?
উত্তর: আত্মসম্মানবোধে ও ধারদেনা শোধের অপারগতায় অপুর বাবা সহজে গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইল না।
অপুর বাবা হরিহরকে দশঘরার সদগোপ সম্প্রদায়ের এক লোক তাদের গাঁয়ে চলে এসে বামুন হিসেবে সপরিবারে বসবাসের প্রস্তাব দেয়। আর্থিক চরম দুরবস্থা সত্ত্বেও হরিহর প্রস্তাবটিতে সরাসরি সম্মতি দেয়নি। কারণ এতে সদগোপ সম্প্রদায়ের লোকেরা হরিহরের দারিদ্র্যের বিষয়টি জেনে যাবে। তা ছাড়া হরিহরের অনেক ধারদেনা ছিল। আবাস পরিবর্তনের সংবাদ শুনে পাওনাদাররা এসে তার কাছে টাকা চাইবে। তাই আত্মসম্মানবোধ ও ধারদেনার টানাপোড়েনে অপুর বাবা সহজে গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইল না।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর