বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের দুই সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে কানাডা পুলিশ সদস্য কেভিন দুগ্গানকে জেরা করার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।
সাক্ষীর জবানবন্দিতে কেভিন দুগ্গান বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্যাস ক্ষেত্রে কাজ পেতে কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্স লিমিটেড ঘুষ লেনদেন করেছে। ঘুষের অর্থ কানাডা থেকে বারবাডোজ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি নাইকোতে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতি করতে ইন্ধন জোগান। আমরা এ দুর্নীতির বিষয়ে জানতে পারি গণমাধ্যমে সংবাদ দেখে। নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে নাইকো রিসোর্সেস কানাডায় সাজাও পেয়েছে।’ এর আগে সোমবার কানাডা পুলিশের আরেক সদস্য লয়েড শোয়েপকে জেরা করা হয়। তবে লয়েড শোয়েপের পুনরায় সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে আগামীকাল ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।
আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘লয়েড শোয়েপকে আসামিপক্ষ জেরার পর কিছু বিষয় স্পষ্ট করতেই ক্রস এক্সামিনের জন্য পুনরায় তার সাক্ষ্য নেওয়া আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। ‘এদিকে কানাডার দুই পুলিশকে জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া ও হান্নান ভূঁইয়া।
কানাডার পুলিশদের সাক্ষ্যের জন্য সশরীরে হাজির হতে গত ১৯ অক্টোবর সমন জারি করেন ঢাকার বিশেষ আদালত। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্স লিমিটেডের সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৮ সালের ৫ মে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালে ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
মামলার অপর সাত আসামি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
এ মামলায় আসামির তালিকায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় আইন অনুযায়ী তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এমএ/