চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পলাতক ২২ জনকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে জানা গেছে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি জামিনে আছেন। এরা হলেন আহসান উল্লাহ ও ওয়াজিবুল আলম।
চার্জশিটের অন্য চার আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া; ওই হলের বিপুল শেখ; ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ; পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ; মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলেন ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আবদুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে হামলাকারীরা মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল।
তোফাজ্জলের মামা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্রিকেট স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জলের কাঁধ, পিঠ, পা ও ঊরুতে প্রচণ্ডভাবে পেটায়। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণের কারণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।
এর আগে মামলাটি তদন্ত করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবার চার্জশিট দাখিল করেন তিনি।
ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ নারাজি দাখিল করলে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
নিহত তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে।
তোফাজ্জলের মৃত্যুর ঘটনার পর ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুপাতো বোন আসমা আক্তার হত্যার অভিযোগে সালিশি (সিআর) মামলা করেন।
সংশ্লিষ্ট আমলি আদালতের বিচারক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে একত্রে তদন্তের নির্দেশ দেন।