পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০০৯ সালের জুনে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১১ সালের ৬ জুন তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নেন।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত চলছিল। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর বনানী ইউলুপে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজমকে গাড়িচাপা দিয়েছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে। সে সময় এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরও মামলা নেয়নি পুলিশ।
অভিযোগ ছিল, বিচারপতির প্রভাব খাটিয়ে সে সময় থানায় ফোন করে ছেলেকে আসামি না করতে চাপ দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেন।
বিচারপতি এমআর হাসান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালীন কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে প্রধান বিচারপতির কাছে।
অভিযোগ আছে একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে রায় পাল্টে দিতেন।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের যে সমস্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত শুরু হয় তার মধ্যে এমআর হাসান অন্যতম।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে তার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। তার প্রেক্ষিতেই তিনি পদত্যাগ করেন।
অমিয়/